প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৫ নভেম্বর, ২০২০

ইরানে হামলার গোপন ছক ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

ক্ষমতা হস্তান্তরের আগমুহূর্তে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে নজিরবিহীন ‘গোপন হামলার’ পরিকল্পনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে এ হামলা চালাতে চেয়েছিল। গতকাল এমন খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের।

ইসরায়েলি চ্যানেল-১৩ জানায়, ট্রাম্পের ক্ষমতা শেষ হওয়ার আগে হামলা চালানো হলে, ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে না। আর এটাকেই মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখেছিল দুই দেশ। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরো বলা হয়েছে, সম্প্রতি সময়ে গোপন মিশন চালিয়ে ইরানের বেশ কজন পরমাণুবিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে তেল আবিব।

------
গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি গুপ্তচররা আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আবু মোহাম্মদ আল-মাসরিকে তেহরানের ভেতরেই অভিযান পরিচালনা করে হত্যা করে। আর এই হত্যাকা-ের নির্দেশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই। যদিও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে অস্বীকার করে তেহরান।

নিউইয়র্ক টাইমসে আরো বলা হয়, সম্প্রতি ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলোতে কবে হামলা চালানো হবে?

নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসের এক বৈঠকে ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানে আক্রমণ চালানোর সুযোগ আছে কিনা, উপদেষ্টাদের সঙ্গে এ নিয়ে করেছেন আলোচনা। ওই বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মিলার ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিত কর্মকর্তারা ইরানে হামলার ব্যাপারে তাকে নিরুৎসাহিত করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানে হামলা চালালে সীমান্ত এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইসরায়েল।

আন্তর্জাতিক একটি চুক্তির আওতায় ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুদ ১২ গুণের বেশি বৃদ্ধির খবর প্রকাশের এক দিন পরই ইরানে হামলা চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। জাতিসংঘের ওয়াচডগ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমঝোতা চুক্তিতে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম থাকার কথা, ইরান তার চেয়ে অন্তত ১২ গুণ বেশি ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে। এখন ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪৪৩ কেজি। ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পরমাণুর মজুদ থাকার কথা থাকলেও এর চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে। চুক্তির বাইরে পরমাণুর মজুদ বাড়িয়ে চলেছে দেশটি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ইউরেনিয়ামের মজুদ ১০ গুণ বৃদ্ধি করেছিল ইরান। সে সময় ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুদের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১০৫ কেজি।

মূলত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়। তবে ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছে যে, তারা শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মিশনের ইরানি মুখপাত্র আলিরেজা মিরোউসফি জানিয়েছেন, ইরান শান্তিপূর্ণ কাজে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

শুধু ইউরেনিয়াম মজুদের খবরে হামলা চালানোর ইচ্ছা প্রকাশই নয়, ক্ষমতায় আসার পর গত চার বছর ধরে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করে চলেছেন ট্রাম্প। তিনি ২০১৮ সালে তার পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে ইরানের সঙ্গে হওয়া আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন। পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এ বছর জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একটি বিমানবন্দরের কাছে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। সেই হামলার পর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার একটি উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তেমনটি ঘটেনি। ট্রাম্পও ইরান ইস্যুতে আর অগ্রসর হননি, মনোযোগ দিয়েছিলেন নিজের দ্বিতীয় মেয়াদ নিশ্চিতের লড়াইয়ে।

তবে গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে গেছেন ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তর। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের প্রধান পরমাণু স্থাপনা নাতাঞ্জে হামলা চালানো হলে তা আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে এবং বাইডেনের জন্য একটি গুরুতর পররাষ্ট্রনীতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়