আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার সান্তাহার
স্বর্ণের দুলের লোভে শিশুকে হত্যা আটক ৩

বগুড়ার সান্তাহারে স্বর্ণের দুলের লোভে ৬ বছর বয়সি শিশু রাখা মনিকে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রতিবেশী দম্পতির বিরুদ্ধে। পরে ঘটনা আড়াল করতে শিশুর লাশ বস্তায় ভরে নিজ বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন তারা। গত বৃহস্পতিবার রাতে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া মহল্লায় অভিযুক্ত আমজাদের বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা আটকদের গণপিটুনি এবং তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটকরা হলেন- সাহেবপাড়ার আবুলের ছেলে আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বণ্যা বেগম ও প্রতিবেশী আবদুল কাদেরের ছেলে বাবু। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও অটোভ্যান গ্যারেজের কর্মচারী আবু রায়হানের শিশুকন্যা রাখা মনি। শিশুটির মা অন্যত্র বিয়ে করায় দাদির কাছে থাকতো। স্থানীয় একটি নুরানি মাদরাসায় নার্সারি শ্রেণিতে পড়তো। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার আছরের আজানের পর শিশুটি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে প্রতিবেশী আমজাদের বাড়ির সামনে দিয়ে সান্তাহার সরকারি কলেজ এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। এ সময় শিশুটি একা থাকার সুযোগে তাকে ধরে আমজাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির কানে একজোড়া স্বর্ণের দুল ছিল। সেটি ছিনিয়ে নিয়ে তার গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি করে লাশটি মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। এদিকে শিশুটিকে ওই দিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তার বাবা, ফুপু, দাদি, পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন। শহরে রাত ৯টার দিকে হারিয়ে গিয়েছে মর্মে মাইকিং করা হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে কিশোর আমিন প্রতিবেশী আমজাদের বাড়িতে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পায়। বিষয়টি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা আমজাদ ও তার স্ত্রী বন্যাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরেক প্রতিবেশী বাবুকেও আটক করে পুলিশ। পুলিশ তাদের থানায় নেওয়ার পর পরই এলাকাবাসী আটকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক ও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
নিহত শিশু রাখা মনির বাবা রায়হান বলেন, সামান্য একজোড়া স্বর্ণের দুলের লোভে আমার এতিম ও অবুঝ এইটুকু মেয়েকে তারা এভাবে হত্যা করল। আমার একটাই চাওয়া, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।’
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে স্বর্ণের দুলের লোভেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো এক নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
"







































