নিজস্ব প্রতিবেদক
পহেলা শ্রাবণ আজ
রিমি ঝিম্ রিমি ঝিম্ ওই নামিল দেয়া...

রিমি ঝিম্ রিমি ঝিম্ ওই নামিল দেয়া/শুনি’ শিহরে কদম, বিদরে কেয়া/ঝিলে শাপলা কমল মলিল দল গো মলিল দল, মেঘ-অন্ধ গগন, বন্ধ খেয়া/ নামিল দেয়া। এলো শ্রাবণ, বর্ষা ঋতুর দ্বিতীয় মাস। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বসন্ত ঋতুরাজ হলেও বৈচিত্র্যময়তা ও বর্ণ বিভায় উজ্জ্বলতম বর্ষা। আর বর্ষার রানি শ্রাবণ। কারণ আষাঢ়ের একটানা বর্ষণের পর শ্রাবণ আসে মায়াবী জলকণার পরশ নিয়ে। বৃষ্টির সহনীয়তায় প্রকৃতিকে সাজায় বর্ণাঢ্য সাজে। মাসটি প্রকৃতির পাশাপাশি অসংখ্য গানে ও কবিতার উজ্জ্বল আভায় বিচ্ছুরিত। শ্রাবণকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ও বৈচিত্র্যময় গান, কবিতা রচনা করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলার শ্রাবণকে তিনি মিশিয়ে দিয়েছেন আরবের জমিনে। পুরো বর্ষা ঋতুর দেড় শতাধিক গানের মধ্যে শ্রাবণ মাস নিয়েই রয়েছে নজরুলের অনবদ্য ৬০টি গান।
বৃষ্টির যে কত রকমের প্রকাশ, তা অনুভব করা যায় শ্রাবণে। কখনো ঝমঝম, কখনো ইলশেগুঁড়ি, কখনো ঝড়কে সঙ্গে করে মুষলধারের বৃষ্টি শ্রাবণকে ভরিয়ে দেয়। কখনো টিপটিপ বৃষ্টিতে নূপুরের নিক্কণ তুলে শ্রাবণ-ধারা।
শ্রাবণের বৃষ্টিতে প্রকৃতির বহুমাত্রিক রূপও উদ্ভাসিত হয়। বৃষ্টি হওয়ার পূর্বের প্রকৃতির একটি রূপ থমথমে-গম্ভীর-এই বুঝি কিছু হয় আবার ঘন কালো হয়ে আকাশ ছেয়ে বিদ্যুৎ-বজ্র সঙ্গে পৃথক এক রূপ ধারণ করে প্রকৃতি। আবার বৃষ্টি-পরবর্তী প্রকৃতির বৃষ্টিস্নাত রূপ মনকে উতলা করে তোলে। রৌদ্রকে সঙ্গে নিয়ে খেলায় মাতে মেঘের ভেলা। মেঘে, বৃষ্টিতে রৌদ্রছায়ায় শ্রাবণ পুরো আকাশে বিছিয়ে দেয় রঙের মহোৎসব।
যদিও গ্রাম-বাংলা ক্রমণ্ডঅবলুপ্তির দিকে। দিগন্ত প্রসারিত মাঠে, বিপুল নদী তীরে, বাংলার সবুজে-শ্যামলে বর্ষার মাতাল দাপট দেখার সুযোগ কমছে দিনে দিনে। শাওনের দিন ও রাত্রিগুলোতে বৃষ্টির আবাহন শোনারও সুযোগ হ্রাস পেয়েছে। পরিবর্তমান গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতির অপরূপ পালাবদল অবলোকন করাও প্রায়-অসম্ভব হয়ে গেছে।
তবুও শ্রাবণ-ধারায় ভেসে ভেসে বৃষ্টির সঙ্গে দেখা যায় জীবনের জলছবি। বৃষ্টির সমান্তরালে শোনা যায় দিনযাপনের টুপটাপ ধ্বনিপুঞ্জ। বাস্তবে না হলেও শ্রাবণ ক্যালেন্ডারের চিত্রিত পাতায় থাকেই। থাকে স্মৃতির দিনগুলো জুড়ে। আকাশে মেঘের গর্জনে আর বৃষ্টির বুনো উল্লাসে মনে করিয়ে দেয় শাওন রাতের জল ছলছল আবহ আর কারো আসা, না-আসার আখ্যান।
"






































