নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অভিমত বিশেষজ্ঞদের

‘জাত সাপ’ হতে হবে দুদককে

কেউ বলেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দন্তহীন বাঘ আবার কারো মতে ঢোঁড়া সাপ। দেশের উচ্চ আদালতও চুনোপুঁটিদের পেছনে না ছুটে রাঘববোয়াল ধরতে বলেছেন। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত রাঘববোয়ালদের ধরতে গেলেই নানামুখী চাপে পেরে উঠতে পারছে না স্বাধীন এই সংস্থাটি।

দায়িত্ব ছাড়ার আগে দুদককে দন্তহীন বাঘের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। আসলে কি তাই ইকবালের আমলে দায়িত্ব পালন করা দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলছেন- নখ, দাঁত সবই আছে দুদকের কিন্তু কামড় দেওয়ার সক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, দুদকের নখ, দাঁত সবই আছে। তবে দাঁত ফোটানোর জায়গাটা একটু কম। সে কারণেই কি চুনোপুঁটিদের পেছনে ছুটে দুদক। কেন রাঘববোয়াল ধরতে পারে না সংস্থাটি।

মঈদুল ইসলাম বলেন, গভীর জলের মাছ অনেক গভীরে থাকে। তাদের ধরতে গেলেই আশপাশ থেকে নানা আশ্রয়ের জায়গা পেয়ে যায় তারা। নানা জায়গায় ঠাঁই নেয়। এসব কারণে কিছু বাধা আছে।

যদিও এমন অভিযোগ মানতে নারাজ দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতির রায় ৫ অক্টোবর। তিনি কি চুনোপুঁটি খালেদা জিয়ার ২ মামলায় সাজা হয়েছে। আরো ৩টি চলছে। তিনিও কি চুনোপুঁটি এরশাদেরও তো সাজা হলো হাজি সেলিমেরও যে বিচার হলো কিন্তু পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আর্থিক খাতের যে অনিয়ম হয়েছে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইনের আওতায় আনা যায়নি। ধরা যায়নি কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারকারীদের। এর মধ্যে ছয় বছরেও বেসিক ব্যাংকের বাচ্চু রহস্যের জট এখনো খোলেনি।

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান বাচ্চুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এটা জাতি জানতে চায়।

এদিকে, সংস্থাটির সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলছেন, সন্দেহভাজন সরকারি কর্মকর্তা, আমলা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যেকোনো ব্যক্তির অবৈধ সম্পদ খতিয়ে দেখতে পারে দুদক। অবৈধ সম্পদ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেন দুদক কর্মকর্তারা। কিন্তু যারা সম্পদের অনুসন্ধান করেন তাদের সম্পদের হিসাব নেবে কে? এমন প্রশ্ন হরহামেশাই দেখা দেয়। দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। আমরা দেখছি। দুদক মানুষের আস্থায় থাকবে এটা আমরা চাই। একই সঙ্গে সম্পদের হিসাব দিতে দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পিছিয়ে থাকবেন না।

সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিকে ইতিবাচক বলেই মন্তব্য করেন তিনি। স্বচ্ছতার জন্য দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সম্পদের হিসাব দিতে হবে। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ৫ বছর পরপর সব চাকরিজীবীকে তার নিয়োগ কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ নিয়ম মানেন না। বিধিমালা মানতে সম্প্রতি সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটির তদন্তের আওতায় থাকা বেশির ভাগই সরকারি চাকরিজীবী। গত ১০ বছরে দেড় হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতি মামলার আসামি হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

দুদক সচিব বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্পদের হিসাব দিলে তাদের অনুসন্ধান তদন্তে সুবিধা হয়। কেউ অবৈধ পথে সম্পদ অর্জন করলে তার একটি চিত্র এই হিসাবে আসবেই। সরকারি এই উদ্যোগের ফলে দুদকের তদন্ত কাজেও অনেক সুবিধা হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close