নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আবার ঘুরবে চাকা ১৭ পাটকলের

আবার চাকা ঘুরবে ক্রমাগত লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ১৭ পাটকলের। এজন্য আন্তজার্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যাতে দেশি-বিদেশি বা যৌথভাবে উভয়েই দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। ইজারার মেয়াদ পরে বাড়ানো যাবে এমন শর্তে প্রথমে ৫-২০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হবে। ইজারা পেলে পাটকলের জমিতে শুধু পাট ও পাটজাত পণ্য এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্যের জন্যই ব্যবহার করা যাবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে নতুন ব্যবস্থাপনায় এসব কল চালু হলে পাট ও পাটজাত পণ্য আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বন্ধ থাকা ২৫টির মধ্যে ঢাকা জোনে পাটকল ৭টি। যার মধ্যে চারটি ইজারা দেওয়া হবে। মিলগুলো হচ্ছে : ইউএমসি জুট মিলস, নরসিংদী; বাংলাদেশ জুট মিলস, ঘোড়াশাল, রাজশাহী জুট মিলস এবং জাতীয় জুট মিলস, সিরাজগঞ্জ। চট্টগ্রাম জোনে মিল ১০টি, যার মধ্যে পাঁচটি ইজারা দেওয়া হবে। মিলগুলো হচ্ছে- হাফিজ জুট মিলস, এমএম জুট মিলস, সীতাকুণ্ডের আরআর জুট মিলস; গুল আহমেদ জুট মিলস, কুমিরা; কেএফডি জুট মিলস ও রাঙ্গুনিয়া। খুলনা অঞ্চলের আটটি মিলই ইজারা দেওয়া হবে। মিলগুলো হলো : প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলস, ক্রিসেন্ট জুট মিলস, ইস্টার্ন জুট মিলস, দৌলতপুর জুট মিলস, স্টার জুট মিলস, যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং কারপেটিং জুট মিলস লিমিটেড।

জুট মিলস লিজের শর্ত : পাটকলগুলো লিজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দিয়েছে বিজেএমসি। শতভাগ দেশীয় ও বিদেশি মালিকানা এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা যৌথভাবে পাটকল ইজারায় এক্সপ্রেস অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) দেখাতে পারবে।

একজন ব্যক্তি একের অধিক মিল লিজ পাওয়ার জন্য দরপত্র জমা দিতে পারবে। আগ্রহীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের পর ১০০ পয়েন্টে চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে। ইজারা পাওয়ার পর তাদের নিজস্ব নামে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সেই সঙ্গে লিজের পুরো মেয়াদেই মাসিক ভাড়া দিতে হবে।

চুক্তি সইয়ের তারিখের দশম মাস থেকে মাসিক ভাড়া দিতে হবে। পাঁচ বছর পর থেকে ভাড়া ১০ শতাংশ বাড়বে। ইজারাদার বা সরকার লিজের অধীনে থাকা মিলগুলোর কোনো কার্যক্রমে অংশে নেবে না। পাশাপাশি কোনো লাভ বা ক্ষতির ভাগীদারও হবে না।

জানা গেছে, ইজারার জন্য দরপত্রে ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বিনিয়োগকারী চূড়ান্ত করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) কার্যালয়ে দরপত্র খোলা হয়। বাছাই করা তালিকা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চূড়ান্ত করার পর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হবে। চুক্তি অনুযায়ী, অর্থ বুঝে পাওয়ার পর পাটকলগুলো হস্তান্তর করা হবে। দরপত্রে প্রতিটি পাটকলের জন্য আলাদা করে সর্বোচ্চ মাসিক ভাড়া প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

বিজেএমসির চেয়ারম্যান আবদুর রউফ বলেন, বেরসকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনে আগের শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই প্রতিশ্রুতির যাতে হেরফের না হয়, সে উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দরপত্র সম্পর্কে বিজেএমসির চেয়ারম্যান বলেন, অন্য কোনো ত্রুটি না থাকলে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রস্তাবিত মিলগুলো ইজারা পাবে। মাসিক ভাড়ার বিষয়ে সরকারের একটা প্রত্যাশা নির্ধারণ করা আছে। সে অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হবে। ইজারাদারকে দুই বছরের ভাড়া অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।

গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বন্ধ কল উৎপাদনে এলে পাটশিল্পে গতি আসবে। কৃষক ও উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন। রপ্তানি বাণিজ্যের পালে হাওয়া লাগবে। তবে নিয়োগ, বেতন কাঠামো নির্ধারণসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের শতভাগ স্বাধীন থাকার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান মনোনীত করার প্রক্রিয়াটাও স্বচ্ছ হওয়া দরকার।

বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বিজেএমএর সভাপতি মাহবুবুল আলম পাটোয়ারী বলেন, প্রচলিত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে উৎপাদনে থাকা বেসরকারি মিলগুলোও সংকটে আছে। পাটের বর্ধিত দরের কারণে উৎপাদন ব্যয় এখন বেশি। এতে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা চাহিদা কমেছে। অনেক পাটকল পণ্য মজুদ পড়ে আছে। বন্ধ পাটকলে দেশি-বিদেশি যারাই বিনিয়োগ করছেন, তাদের অবশ্যই প্রচলিত পণ্যের বাইরে নতুন পণ্য উৎপাদনে যেতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নির্ধারণ করে দেওয়া প্রয়োজন।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close