নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি

মানবপাচারে জড়িত ২ এয়ারলাইনস

বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারে দুটি এয়ারলাইনসের কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। ওই দুই এয়ারলাইনসের পাঁচ থেকে সাতজন কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে যাদের পাচার করা হয়েছে, তাদের সবাইকেই ভিজিট ভিসা বা কনফারেন্স ভিসায় নেওয়া হয়েছে। এসব ভিসায় কেউ কোনো দেশে গেলে তাদের রিটার্ন টিকিট থাকার কথা। কিন্তু যাদের পাচার করা হয়েছে তাদের কেউ-ই রিটার্ন টিকিট নেননি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মাহবুবুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারে জড়িত পলাতক কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ইন্টারপোলে আবেদন জানানো হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ছয়জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয়। গত ২৭ নভেম্বর ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করে। এরা হলো মিন্টু মিয়া (কিশোরগঞ্জ), তানজিমুল ওরফে তানজিদ (কিশোরগঞ্জ), জাফর ইকবাল (কিশোরগঞ্জ), নজরুল ইসলাম মোল্লা (মাদারীপুর), শাহাদাত হোসেন (কিশোরগঞ্জ) ও স্বপন (কিশোরগঞ্জ)। গত ২ জুন তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে তানজিমুল ইতালিতে পালিয়ে আছে বলে জানা গেছে।

------
মাহবুবুর রহমান বলেন, গত ২৬ মে লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনার পর মানবপাচারের ২৬ মামলার মধ্যে ২৫টি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। এসব মামলায় আসামি ২৯৯ জন। এখন পর্যন্ত ১৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হবিগঞ্জে করা একটি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ৪২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিআইডির সিনিয়র এএসপি জিসানুল হক জানান, ২০১৯ সালের মে মাস থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৮ ব্যক্তিকে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায় পাচারকারীরা। ইতালি ও স্পেনে পাঠানোর কথা বলে অনেককে লিবিয়ার বেনগাজিতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে তাদের ত্রিপলী শহরে উচ্চ বেতনের কথা বলে নিয়ে যায়। ত্রিপলীর মিজদায় বাংলাদেশি মানবপাচারকারীদের সহায়তায় লিবিয়ার মাফিয়া গ্রুপ ভিকটিমদের অমানবিক নির্যাতন শুরু করে এবং মুক্তিপণ দাবি করে।

তিনি আরো জানান, ভিকটিমদের নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে দেশে স্বজনদের কাছে পাঠানো হতো। মুক্তিপণ আদায়ের পর গত ২৬ মে নির্বিচারে গুলি করে ২৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১২ জন গুরুতর আহত হয়। গত ৩ অক্টোবর সিআইডির উদ্যোগে ৯ জন ভিকটিমকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়