reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৫ অক্টোবর, ২০২১

ওজন-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের যত্নসহ গ্রিন টি’র যত গুণ

ছবি : সংগৃহীত

বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, গ্রিন টি বা সবুজ চা স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারি।এটি কেবল ওজনই নিয়ন্ত্রণে রাখেনা বরং রয়েছে নানাধরনের উপকারিতা। 

ওজন কমাতে:
গ্রিন টি বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করে। এর পলিফেনল শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে খাবার থেকে ক্যালরি তৈরি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। ফলে দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে না। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি এক দিনে ৭০ কালরি পর্যন্ত ফ্যাট বার্ন করে। তার মানে রেগুলার গ্রিন টি পানের মাধ্যমে বছরে ৭ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে:
সবুজ চা দৃশ্যত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে, যা প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে গ্রিন টি।

খাদ্যনালীর ক্যান্সার রোধে:
এটা খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।এছাড়াও ভালো কোষগুলোর কোনো ক্ষতি না করে সার্বিকভাবে ক্যান্সারের কোষ নির্মূল করে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে:
গ্রিন টি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণও বাড়ায়।

দাঁত ভালো রাখে:
গ্রিন টির ‘ক্যাটেকাইন‘ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ভিতরের বিভিন্ন ব্যকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে।যা গলার ইনফেকশনসহ দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা ও হ্রাস করে।

উচ্চ রক্ত চাপ কমায়:
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে ।

ডিপ্রেশন দূর করে:
প্রাকৃতিকভাবেই ‘থিয়ানিন’ নামের অ্যামাইনো এসিড চা পাতায় পাওয়া যায়।এই উপাদান দুশ্চিন্তা ও হতাশা কমাতে সাহায্য করে।তাই নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ত্বকের যত্নে:
গ্রিন টি তে রয়েছে এক ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্ট যা বার্ধক্যের গতিকে ধীর করে এবং আয়ু বাড়ায়। ব্যবহার করা গ্রীন টির দুটি ব্যাগ ২ ঘন্টা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে বন্ধ চোখের উপর ১০ মিনিট রাখলে চোখের ফোলা ভাব এবং চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল কমে। তাছাড়া এটি ত্বকের রোদে পোড়া ভাব কমাতে ও ব্ল্যাক হেডস দূর করতে ও সাহায্য করে। এমনকি গ্রিন টি  ভালো টোনার হিসেবেও কাজ করে।

তবে গ্রিন টি খাওয়ার ব্যাপারেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
যেমন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে গ্রিন টি না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।কারণ,সকালে শরীরে মেটাবলিজমের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে।কিন্তু সন্ধ্যা বেলায় যখন শরীরে মেটাবলিজমের মাত্রা কমে যায় তখন গ্রিন টি মেটাবলিজমের  মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন টি খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় সকাল ১০-১১টা মধ্যে কিংবা সন্ধে ৬-৭ টার মধ্যে।

বিশেষজ্ঞদের মতে খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খালি পেটে পানি ছাড়া আর কোনও কিছুই খাওয়া উচিত নয়।খালি পেটে গ্রিন টি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে।কারণ গ্রিন টি-তে ট্যানিন থাকে যার ফলে পেটে ব্যথা করতে পারে এমনকি আলসার এবং হাইপার অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে।তাই গ্রিন টি সবসময় খাবারের পরে বা খাবার খাওয়ার সময় পান উচিত।তাছাড়া,গ্রিন টি দিনে তিন কাপের বেশি খাওয়া উচিত নয়।অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। 

বিশেষজ্ঞরা আরো জানাচ্ছেন,অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য গ্রিন টি পান করা ক্ষতিকর।তবে আয়রনের ঘাটতি থাকলে গ্রিন টি পান করা যাবে।কারণ,এটি খাদ্য থেকে আয়রনের শোষণ বাড়ায়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
গ্রিন টি,উপকারিতা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close