reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

৯/১১ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ ছিল না মার্কিন মুসলিমদের

ছবি : সংগৃহীত

নাইন-ইলেভেন হামলার পর আমেরিকান মুসলিমরা নানান চাপে পড়ে। বিশেষ করে এই হামলার পর তাদের বাকা চোখে দেখা হয়। তাদের সাথে বৈষম্য করা হয় এবং তাদের নিজেদের দেশে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনটিই বলেছে, দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা।

এরপরও বিগত ২০ বছরে সামাজিক ও রাজনৈতিক গোঁড়ামি সত্ত্বেও, মুসলিম আমেরিকানরা মূলধারার রাজনৈতিক কাঠামোতে নিজেদের জন্য একটি অবস্থান তৈরি করেছে। খবর আলজাজিরা।

বিশেষজ্ঞরা আল জাজিরাকে বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে আরো দৃশ্যমান এবং সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। এটি একটি আত্মরক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার একটি উপায় ছিল। 

ব্রুকলিন কলেজের  লেখক ও অধ্যাপক মোস্তফা বায়ুমি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবসময় মুসলমান থাকলেও "গোঁড়ামির বিস্ফোরণের" প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম-আমেরিকান রাজনৈতিক অবস্থান ও পরিচয়কে সুগঠিত করে মুলত  মূলত ৯/১১ হামলার পর। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানরা বুঝতে পেরেছিল যে কেউ তাদের রক্ষা করবে না, তাই নিজেরাই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।আর তারা করেছেও তাই। যার কারণে আপনি এখন দেখবেন, মার্কিন মুসলমানরা ভোট দিচ্ছে, অফিসের জন্য দৌড়াচ্ছে এবং নানান সংগঠন করছে। তারা তাদের নিজস্ব জায়গা তৈরি করছে।

গত দুই দশক ধরে মুসলমানরা মূলধারার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে - ভোটার, সংগঠক এবং প্রার্থী হিসেবে। সিটি কাউন্সিল এবং স্কুল বোর্ড থেকে শুরু করে রাজ্য বিধানসভা,কংগ্রেসের হল পর্যন্ত, আরও বেশি মুসলিম আমেরিকানরা জিতেছে।

ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং (আইএসপিইউ) -এর আউটরিচ এবং পার্টনারশিপ ম্যানেজার পেট্রা অলসোফি বলেন, মুসলিম আমেরিকানদের নাগরিক সম্পৃক্ততা গত দুই দশকে "ব্যাপক উন্নতি" দেখেছেন তিনি।

তিনি আইএসপিইউ গবেষণার উদ্ধৃতি দেন, যা ভোটার নিবন্ধন এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক অংশগ্রহণে মুসলিমদের অগ্রসরতা দেখছেন। দেখা যায়, আমেরিকার রাজনীতি ও নির্বাচনে স্বেচ্ছাসেবী প্রচারণার পাশাপাশি মুসলিম প্রার্থীদের সংখ্যাও রয়েছে।

আইএসপিইউ -এর এক গবেষণায় দেখা গেছে , মুসলিম-আমেরিকান ভোটার নিবন্ধন ২০১৬ সালে যেখানে ৬০ শতাংশ ছিল সেখানে২০২০ সালে ৭৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। 

এছাড়াও মুসলিম ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য ভোটার নিবন্ধন প্রচারাভিযান এবং কমিউনিটি আয়োজকদের কৃতিত্ব রয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো মুসলিম প্রার্থীরা তাদের নিজেদের সম্প্রদায়কে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে, বলেন অলসোফি। 

মুসলমানরা এখন অতিমাত্রায় ভোটকেন্দ্রে গমন করায় রাজনীতিবিদরাও তাদের প্রতি নমনীয় ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন   করছেন। তাই রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী জো বাইডেন গত বছরের নির্বাচনের আগে মুসলিম-আমেরিকান সম্প্রদায়ের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রকাশ করেছিলেন ।

তিনি দুটি মুসলিম গোষ্ঠীকে প্রেসিডেন্টের জন্য গণতান্ত্রিক মনোনীত প্রার্থী হিসেবেও সম্বোধন করেছিলেন।

গত অক্টোবরে মুসলিম আইনজীবীদের একটি ভার্চুয়াল ইভেন্টে বাইডেন বলেছিলেন, "রাষ্ট্রপতি হিসাবে, আমি আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণার বিষয় দূর করতে, আপনাদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে এবং আপনাদের ধারণা খুঁজতে কাজ করব।"

"আমার প্রশাসন আমেরিকা, মুসলিম আমেরিকানদের জন্যে প্রতিটি স্তরে সেবা করবে।"

যদিও মুসলিম আমেরিকানরা প্রশাসনে "প্রতিটি স্তরে" ঠিকভাবে কাজ করছে না, বাইডেন এই বছরের শুরুর দিকে প্রথম মুসলিম ফেডারেল বিচারক নিয়োগ করেছিলেন।

তিনি ইরাকে নিহত মার্কিন সেনা ক্যাপ্টেনের পিতা খিজর খানকে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশনের সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন।

ফেব্রুয়ারিতে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের উপ-পরিচালক সামিরা ফাজিলি খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। কারণ তিনি হিজাব পরা অবস্থায় হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং করছিলেন। 

পিডিএসও/এসএমএস

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
নাইন-ইলেভেন,হামলা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close