নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৯ জুন, ২০২১

দেশজুড়ে মডেল মসজিদ : ইসলামচর্চায় শেখ হাসিনার উদ্যোগ

‘ইসলামবিরোধী’ তকমা দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করে রাখার অপচেষ্টার দিন শেষ হয়ে গেছে আগেই। ভোটের সময় এটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেও ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা হয়েছে অনেক। কিন্তু তাতেও হালে পানি পায়নি। কারণ এসব অপবাদের জবাব বেশ ভালোভাবেই দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামি অ্যাকাডেমি থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। সেই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছিলেন প্রফেসর মুঈন উদ-দীন আহমদ খানের মতো ব্যক্তির ওপর। এখন দেশের কোটি কোটি মুসলিমকে আলোর পথ দেখাচ্ছে এই ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে মসজিদভিত্তিক কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম গ্রামে বেশ জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, এই ফাউন্ডেশনের অধীনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে সারাদেশে ৫৬০টি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি ইসলাম চর্চায় আওয়ামী লীগের অবদানে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ ছাড়া ইসলাম চর্চায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগ জাতির সামনে দৃশ্যমান হবে।

এদিকে সারা দেশে নির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদের মধ্যে ৫০টি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা ভার্চুয়ালি এসব মসজিদ উদ্বোধন করবেন। গতকাল মঙ্গলবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে মোট ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ৫০টি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

আগামীকাল যে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে সেগুলো হচ্ছে—ঢাকার সাভারে, ফরিদপুরে মধুখালীতে, সালথায়, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কুলিয়ারচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, রাজবাড়ীর উপজেলা সদর, শরীয়তপুরের উপজেলা সদর ও গোসাইরহাট, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, শেরপুর ও কাহালুতে, নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা, সিরাজগঞ্জের জেলা সদর ও উপজেলা সদর, পাবনার চাটমোহরে, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ও পবায়, দিনাজপুরের খানসামা ও বিরলে, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও উপজেলা সদর, রংপুরে জেলা সদর, মিঠাপুকুর উপজেলা সদর, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর, নোয়াখালীর সুবর্ণচর, ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও তারাকান্দায়, চট্টগ্রামে জেলা সদর, লোহাগড়া, মিরসরাই ও সন্দ্বীপে, জামালপুরের ইসলামপুর ও উপজেলা সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ও বিজয়নগরে, ভোলার উপজেলা সদর, সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি, খাগড়াছড়ির পানছড়ি, কুষ্টিয়ার উপজেলা সদরে, খুলনার জেলা সদরে, চাঁদপুরের কচুয়া, ঝালকাঠীর রাজাপুর এবং চুয়াডাঙ্গার জেলা সদরে নির্মিত মডেল মসজিদ।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই আলোকে ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেন।

অনুমোদিত প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী মডেল মসজিদের জন্য ৪০ শতাংশ জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ও উপকূলীয় এলাকায় চারতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং উপজেলার জন্য তিনতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) নজিবুর রহমান বলেন, ‘এ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শেষ। বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া আরো ১০০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণকাজও শেষের পথে।’

নজিবুর রহমান আরো বলেন, ‘এটি গতানুগতিক কোনো মসজিদ নয়। এটি আরব বিশ্বের মসজিদ কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের আদলে করা। এই মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে থাকছে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরি, গবেষণা ও দ্বীনি দাওয়া কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন হেফজ এবং শিশু শিক্ষাসেবা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, লাশ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ইমামদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

সম্মিলিত ইমাম পরিষদের নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দেখলে মন ভরে যায়। এক একটি মসজিদ সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্যান্য মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জন্য মডেল। এই মসজিদগুলো যে নিয়মে চলবে, পুরো বাংলাদেশের সব মসজিদ একই নিয়মে চলবে। তাতে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি, দ্বন্দ্ব হবে না। এক প্ল্যাটফর্মে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও অনুশীলনের নজির হবে এটি।’

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ‘আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাই যে প্রকৃতপক্ষে ইসলামের পক্ষের এগুলো হলো তার প্রমাণ। তবে দুঃখজনক হলো ইসলামবিরোধী গোষ্ঠী নানা সময়ে ইসলামের লেবাসে এই প্রোপাগান্ডা ছড়াতে সক্ষম হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী। এজন্য দায়ী আমাদের (আওয়ামী লীগ) প্রচারবিমুখ মানসিকতা। আমরা নীরবে ইসলামের কাজ করছি, প্রচারে ততটা মনোযোগী নই।’

আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘৫৬০টি মডেল মসজিদের মতো আওয়ামী লীগ ইসলামের কল্যাণে কাজ করেছে। বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাবলিগ জামাতের জন্য কাকরাইলে মসজিদ ও টঙ্গীতে ইজতেমার জায়গা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদরাসা শিক্ষার প্রসারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কওমি মাদরাসার সনদ দিয়েছেন, আলিয়া মাদরাসার জন্য স্বতন্ত্র আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছেন। ইসলামিক সংস্কৃতির প্রসারে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ করছেন। আমরা নীরবে ইসলামের কাজ করছি, প্রচারে ততটা মনোযোগী নই। আমাদের উচিত এসব কাজ জাতির সামনে তুলে ধরা।’

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
দৃষ্টিনন্দন,মডেল মসজিদ,আওয়ামী লীগ,প্রধানমন্ত্রী,ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র,প্রকল্প
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close