পলাতক ৫ খুনিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২০, ০৯:৪৯ | আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ১৫:৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক পাঁচ আসামি হচ্ছেন—এ এম রাশেদ চৌধুরী, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান। এদের মধ্যে এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে এবং এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর ধরেই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আর বাকি তিনজনের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। পুলিশ সদর দফতরের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের খবর, এ তিনজন এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আসা-যাওয়া করছেন।

এদিকে, পলাতক পাঁচ খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন মুজিববর্ষে অন্তত একজন খুনিকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকরে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে পলাতক পাঁচজনের বিষয়ে ইন্টারপোল থেকে রেড নোটিস জারি করা আছে। ২০০৯ সালে এ নোটিস জারি হয়। এর পর প্রতি পাঁচ বছর পর পর এ নোটিস নবায়ন করা হচ্ছে। এরমধ্যে রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে সরকার যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। অন্যদের মধ্যে মোসলেহ উদ্দিন ভারত অথবা পাকিস্তানে আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পাকিস্তানকে বিভিন্ন সময় চিঠি দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। আর ভারত বলেছে, মোসলেহ উদ্দিন তাদের দেশে নেই। আবদুর রশিদ ফ্রান্স, ইতালি, লিবিয়া, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মধ্যে কোনো একটি দেশে থাকতে পারেন। আর শরিফুল হক ডালিম চীন, ইংল্যান্ড, হংকং, কেনিয়া, লিবিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে কোনো এক দেশে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে চিঠি পাঠিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হলেও প্রত্যুত্তর পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কানাডায় বসবাসরত নূর চৌধুরীকে দেশটির সরকার ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করায়। কারণ কানাডায় মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ। অপরদিকে রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র এড়িয়ে যাচ্ছে। তাকে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে। দুজনকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান আছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। নিম্ন আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন।

২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাইকোর্টের দেওয়া ১২ খুনির মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল থাকে। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। রায় কার্যকরের আগেই ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান আজিজ পাশা। আর সব শেষ চলতি বছরের ১১ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিটে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ২৫ বছর ধরে ভারতে পালিয়ে ছিলেন তিনি। করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভারত থেকে গত ২৬ মার্চ ময়মনসিংহ সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। দেশে ফেরার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

পিডিএসও/হেলাল