বাতের ব্যথায়ও চোখে সমস্যা

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ডা. শামস মোহাম্মদ নোমান

বাতরোগ হলো হাড় এবং মাংসপেশি সম্পর্কিত। এর সঙ্গে আবার চোখের সম্পর্ক কোথায়? ভাবতেই অবাক লাগছে তাই না? শরীরের এমন অনেক রোগ আছে, যাতে চোখের সমস্যাও একটা প্রধান ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

যেসব বাতরোগে চোখের সমস্যা হয়

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস-এতে সাধারণত হাড় এবং পায়ের ছোট জয়েন্টে প্রদাহ হয়, তার সঙ্গে চোখের শুষ্কতা, সেক্লরাইটিস (চোখের সাদা অংশের প্রদাহ), কেরাটাইটিস (চোখের কর্নিয়ার প্রদাহ) ইত্যাদি হতে পারে।

জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস হাঁটু এবং পায়ের গোড়ালিসহ ছোট-বড় বিভিন্ন জয়েন্টে প্রদাহ সৃষ্টিকারী এই রোগ সাধারণত ১৬ বছরের কম ছেলেমেয়ের বেশি হয়। এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চোখে ব্যথাযুক্ত প্রদাহ বা ইউভাইটিস হতে পারে।

এনকাইলোসিং স্পনডাইলাইটিসথ মাজায় ব্যথা এবং প্রদাহ সৃষ্টিকারী এই রোগে শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে চোখের সমস্যা হতে পারে। এতে চোখে ইউভাইটিস এবং সেক্লরাইটিস হতে পারে।

রিটার সিনড্রম-এ রোগে হাঁটু, পায়ের গোড়ালি, পায়ের আঙুল ইত্যাদি অংশে হঠাৎ করে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। সঙ্গে সঙ্গে চোখের কনজাংকটিভা, সাদা স্কেরা, কর্নিয়া, ইউভিয়া, দৃষ্টি স্নায়ু এমনকি রেটিনাতেও প্রদাহ হতে পারে।

চোখের সমস্যা কীভাবে বুঝবেন?

শুষ্ক চোখ, চোখে জ্বালাপোড়া, কচকচ করা, ময়লা জমা, চোখের পানি কমে যাওয়া ইত্যাদি চোখের শুষ্কতার লক্ষণ।

কর্নিয়ায় ঘা, চোখে ব্যথা হওয়া, পানিপড়া, আলোতে চোখ খুলতে না পারা ইত্যাদি কর্নিয়া ঘায়ের লক্ষণ।

স্কেরাইটিস-চোখের সাদা অংশ হঠাৎ করে লাল হওয়া, প্রচন্ড ব্যথা করা, চোখ নাড়াতে অসুবিধা হওয়া এ রোগের লক্ষণ। বাতের ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত চোখেও ব্যথা শুরু হয়।

ইউভাইটিস-চোখের ভেতরে রক্তনালি পূর্ণ স্তরের প্রদাহকে ইউভাইটিস বলা হয়। বাতরোগের সঙ্গে সবচেয়ে কমন চোখের রোগ এটি। দুই চোখে প্রচ- ব্যথা হওয়া, চোখে লাল হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। এ রোগের কারণে কর্নিয়ার পেছনে পুঁজ জমে এবং চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

করণীয়Ñপ্রথমত ডাক্তারের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা যেমন রক্ত পরীক্ষা, জয়েন্ট এক্স-রে করার মাধ্যমে বাতরোগের ধরন শনাক্ত করতে হবে। তারপর সেই রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হবে। ডাক্তাররা সাধারণত ব্যথার ওষুধ ছাড়াও বিভিন্ন ডিজিজ মডিফাইং ওষুধ, ইমুনোসাপ্রেসর ওষুধ ইত্যাদি সেবনের পরামর্শ দেন। নিয়মিত এসব ওষুধ সেবনে রোগী অনেক আরামবোধ করেন। ডাক্তারের পরামর্শে কিছু প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করা যেতে পারে।

বাতরোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখে সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা না গেলে চোখের প্রদাহের কারণে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত একসঙ্গে দুই চোখ, আবার একটির পর আরেকটি আক্রান্ত হতে পারে। বাতরোগের চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত চোখের চিকিৎসা জরুরি।

এট্টোপিন আই ড্রপ কর্নিয়ার ঘা এবং ইউভাইটিস দুটি রোগে কার্যকর। স্টেরয়েড ড্রপের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবহারে চোখের প্রদাহ অনেকাংশে কমে আসে। চোখের চাপ বেড়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিগ্লুকোমা ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখের প্রদাহের কারণে লেন্সে ছানি পড়তে পারে। এতে দৃষ্টি কমে যেতে পারে। আইড্রপ ব্যবহার করে চোখের প্রদাহ কমলে ছানি অপসারণ এবং কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি অনেকাংশে ফিরে পাওয়া সম্ভব। বাতরোগের চিকিৎসায় যারা অনেক দিন ধরে স্টেরয়েড সেবন করেন তাদের চোখে ছানি এবং গ্লুকোমা রোগ হতে পারে। সুতরাং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত স্টেরয়েড সেবন করা উচিত নয়।

লেখক : কনসালট্যান্ট, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম

"