ইরাকে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে এক দিনে নিহত ৪৫

ইরাকের বিক্ষোভ দিন দিন রক্তক্ষয়ী রূপ ধারণ করছে। গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরাদের দমনে আরো চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনী। তারপর নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪৫ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরো ২৫০ বিক্ষোভকারী। গত অক্টোবরে শুরু হওয়ার বিক্ষোভে এ নিয়ে চার শতাধিক মানুষ নিহত হলো।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানী বাগদাদ, নাজাফ ও নাসিরিয়াসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সরাসরি গুলি করলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির চলমান এই বিক্ষোভের সবচেয়ে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন ছিল এটি। গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা একাধিক শহরে বিক্ষোভ করেন।
এর আগে গত বুধবার রাতে নাজাফ শহরে অবস্থিত ইরানে একটি কনস্যুলেট ভবনে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। তারপর গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামলেই তাদের লক্ষ্য করে উন্মুক্ত গুলি চালানো শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী।
কনস্যুলেট ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকা নামিয়ে তার বদলে ইরাকের পতাকা ঝুলিয়ে দেয়। ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরান সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়েই মূলত বিক্ষোভকারীদের এই ক্ষোভ। তারা ইরানের সংসদ ও রাজনৈতিক দলসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রভাব খাটানোর জন্য ইরানকে দায়ী করছেন স্লোগানে স্লোগানে।
গত বুধবার রাতে ইরানি কনস্যুলেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে বিক্ষোভকারীদের জ্বলন্ত কনস্যুলেটের সামনে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ইরাকের বিক্ষোভে এ ঘটনাকে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
গত বৃহস্পতিবার নাসিরিয়া শহরে বিক্ষোভকারীরা ভোর হওয়ার আগেই একটি সেতু দখলে নেয়। তাদের সরাতে উন্মুক্ত গুলি চালাতে শুরু করে সেনারা। সেখানে নিহত হন ২৯ জন। তারপর বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে জড়ো হয়।
এ ছাড়া রাজধানী বাগদাদে টাইগ্রিস নদীর ওপর নির্মিত এক সেতুর নিকটে অবস্থান নেন অনেক বিক্ষোভকারী। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ লক্ষ্য করে উন্মুক্ত গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে নিহত হন অন্তত চারজন। এ ছাড়া আরেক শহর নাজাফে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন ১২ বিক্ষোভকারী।
গত বৃহস্পতিবার তীব্র সহিংসতার পর ইরাকের সঙ্গে মেহরান সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সীমান্তটি কখন খুলে দেওয়া হবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মিত্র ইরানের কনস্যুলেটে হামলার পর তার নিন্দা জানিয়ে কঠোর হস্তে বিক্ষোভ দমনে নামে ইরাক সরকার। ফলে গত বৃহস্পতিবার দেশটির বিক্ষোভ সর্বাধিক সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্ন জীবন মান অতিরিক্ত ব্যয়, সরকারি পরিষেবার দুর্বল মান এবং প্রশাসনে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে রাজধানী বাগদাদসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ ছাড়া সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ইরানের আজ্ঞাবহ অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে ইরানের প্রভাব দূর করার দাবিও তুলছেন তারা।
পিডিএসও/তাজ









































