খাদেমুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

মাদারগঞ্জে ৭০০ বাড়িতে পুষ্টি বাগান

বাগান পরির্চযা নিয়ে কথা বলছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাড়ির আঙিনায় করা পারিবারিক পুষ্টি বাগান। মুজিববর্ষ উপলক্ষে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি বাড়ির আঙিনা এখন হয়ে উঠেছে কৃষি খামার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বসতবাড়ির আঙিনা, পতিত ও অনাবাদি জমিতে তৈরি করা হয়েছে এসব পারিবারিক বাগান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে সবজি বীজ, সার ও ফলের চারা বিতরণ করছে। বাড়ির উঠানে বিষমুক্ত সবজির চাষ করে পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি, সময়মতো বীজ বপন ও পরিচর্যাসহ সার্বিক বিষয়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। ফলে কৃষকদের মধ্যে পারিবারিক পুষ্টি বাগান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৪টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরের ৩২ টি বাগান স্থাপন করা হচ্ছে। অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এসব বাগান করা হচ্ছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাদারগঞ্জের ৭টি ইউনিয়নে ৭০০ জনের বাড়ির আঙিনায় এই পুষ্টি বাগান করা হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সেই সবজির বাগানগুলো নিয়মিত তদারকি করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, জোনাইল নয়াপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম, বেড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামসহ অনেকেই নিজ বাড়ির আঙিগনায় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন। বাড়িতে গেলেই চোখে পড়বে সবুজে ঘেরা সবজির ক্ষেত। উঠানবাগানে শুধুই যে সবজি রয়েছে তা কিন্তু নয়। সবজির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ফল ও মসলা জাতীয় বাগান। সবজির মধ্যে রয়েছে লাল শাক, পুঁইশাক, কমলিশাক, পালংশাক, মূলা, ডাটা, ফুলকপি, বাধাঁকপি, টমেটো, বেগুন, ঢেঁরস, বরবটি, পেঁপে। মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে পিয়াজ, রসুন, ধনিয়া, মরিচ, আদা, হলুদ। ফলের মধ্যে রয়েছে মাল্টা, লেবু, থাই পেয়ারা, বরইসহ  নানাজাতের ফল।

সবজি চাষীরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি করেছি। বাড়ির আঙিনায় হওয়ায় জমিতে সার, বীজ বপন,পানির সেচ দেওয়া থেকে শুরু করে ফসল রক্ষণাবেক্ষণের সব আমরা ও আমাদের স্ত্রীরা করে থাকি। নিজেরা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে  নিজেদের পরিবারকে খাওয়াতে পাচ্ছি। কারণ বর্তমানে বাজারে প্রতিটি সবজিতেই দেয়া থাকে মাত্রারিক্ত সার ও কীটনাশক, যা মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ফলে অন্যান্য চাষাীরাও বাড়ির উঠানে অনাবাদি ও পতিত জমিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদুল ইসলাম জানান, অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এ বাগান স্থাপন করছে উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিস সবজির বীজ, জৈব ও অজৈব সার, বীজ উৎপাদন, বাঁশের খুঁটি, চারদিকের বেড়া, সবজির বাগান তৈরিসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে। একটি টাকাও লাগবে না যার আঙিনায় এ পারিবারিক পুষ্টি বাগান করা হবে। যারা বাড়ির উঠানে বিষমুক্ত সবজি চাষ করবে তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করবে কৃষি অফিস। উপজেলায় পুষ্টিবাগানে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের মাঝে। বর্তমানে ৩২জন কৃষকের বাড়ির আঙিনায় এই সবজির বাগান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের আওতায় আরো ৭০০জন কৃষকের আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পারিবারিক পুষ্টি বাগান,বাড়ির আঙ্গিনায় কৃষি,মুজিব বর্ষ,মাদারগঞ্জ উপজেলা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close