বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

টেকনাফে নির্বাচনের মাঠে ৯ ইয়াবা কারবারি

টেকনাফের ৪ ইউপি নির্বাচনে আত্মস্বীকৃত ৯ ইয়াবা কারবারি

আইনি বিধিনিষেধ না থাকায় টেকনাফে ইউপি নির্বাচনের মাঠে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারিদের দৌঁড়ঝাপ চলছে। স্থানীয় নির্বাচনে এসব অপরাধী প্রার্থী হতে পারায় সচেতন ভোটার এবং সুশীল সমাজের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভূমিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে নুতন করে নির্বাচনি আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দ্বীপ ইউনিয়ন সেন্টমার্টিনের নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ প্রচারণা শুরু করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শামশুল আলম, ১নং ওয়ার্ডের মোয়াজ্জেম হোসেন দানু, ৬নং ওয়ার্ডের আলী আহমদ, ৭নং ওয়ার্ডের রেজাউল করিম রেজু, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউর রহমান জিয়া, ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী এনামুল হক, হ্নীলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জামাল হোসাইন, ৮নং ওয়ার্ডের নুরুল হুদা ও ৯নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রার্থী হয়েছেন হাসান আব্দুল্লাহ। উল্লেখিত চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি। তারা ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের তৎকালীন আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর হাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্র জমাদানের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরবর্তীতে আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে আত্মস্বীকৃত এসব কারবারি জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরমধ্যে সদরের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউর রহমান জিয়া এবং হ্নীলার মেম্বার প্রার্থী আব্দুল্লাহ হাসান ছাড়া বাকিরা বর্তমান মেম্বার।

সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আত্মস্বীকৃত এসব ইয়াবা কারবারিদের  জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করায় তারা বিভিন্নভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন জেলে থাকায় উল্লিখিত কারবারিদের ওয়ার্ডের মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম জানান, মাদক কারবারিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় মানুষের বিরাট ক্ষতি হচ্ছে। এর আগে তারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। কারবারিরা জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেননি। ইয়াবা কারবারিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে তিনি আইনি ধারা যুক্তকরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

কক্সবাজার জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি হোয়াইক্যং আলী আছিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল চৌধুরী মুসা জানান, আত্মস্বীকৃত অপরাধীরা নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধির গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে। তিনি ইয়াবা কারবারিদের যেকোনো মূল্যে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারিদের মনোনয়নপত্রের বৈধতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. বেদারুল ইসলাম বলেন, আইনিভাবে কোনো সুযোগ না থাকায় তাদের মনোনয়ন আটকানো সম্ভব হয়নি। 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আইনানুগ ব্যাপার। আইনি বাধা না থাকায় ইয়াবা কারবারিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে যায়। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।  

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ইয়াবা কারবারি,নির্বাচন,টেকনাফ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close