মিনহাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

  ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

চসিক নির্বাচন : দুশ্চিন্তা নিয়েই ভোটে থাকছে বিএনপি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার জয় ছিনিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিএনপি। কিন্তু তা সত্তেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি ভোটে টিকে থাকার চেষ্টা করবে বলে জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি জানান, আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোটকেন্দ্রে আাসতে উদ্বুদ্ধু করেছি। কিন্তু কিছু মাস্তা, চাঁদাবাজ, ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতি উৎসাহী অফিসারের কারণে পরিবেশটা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু আমার রক্ত ঝরবে। তবু বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাব। কাউকে ভয় করে রাজনীতি করিনি ও করবও না। সিইসি চট্টগ্রামে এসেও কোন সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাইনি জানিয়ে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত বলেন, বিএনপির নেতা ও কর্মী এখন কেউ ঘরে থাকতে পারছে না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার যাওয়ার পর থেকে প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, মামলা দেয়া হচ্ছে এবং সেন্টারে না যাওয়ার জন্য ও এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা হুমকি দিয়ে বলছে, আমরা যেন কাউকে না দেখি, দেখলে গ্রেফতার করা হবে।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট শুরুর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তৎকালীন বিএনপি সমর্থিত মেযর প্রার্থী এম মনজুর আলম। তখন পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তোলেন তারা। নির্বাচনে অনিয়মের কারণে চট্টগ্রামের বিএনপি সমর্থিত মেযর প্রার্থী এম মনজুর আলম রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।

বিএনপি নেতাদের দাবি করেন, চসিকের ভোটের প্রচার উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা এবার অনেক বেশি সংখ্যায় মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে নির্বাচন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠার পাশাপাশি দলগতভাবে বিএনপি ব্যাপক চাঙ্গা হয়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চসিক নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর জানান, নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বিএনপি এবার মাঠে আছে। জনগণও ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছে। এখন পর্যন্ত বিএনপির সিদ্ধান্ত আমরা ভোটের শেষ পর্যন্ত থাকব। তবে সরকার একেক সময় একক পদ্ধতি অবলম্বন করে ভোট কারচুপি করছে।

নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল জানান, চসিক নির্বাচনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ভোটের অধিকার জনগণ ভোগ করতে পারবে কিনা। এই জায়গাটি নিশ্চিত হতে পারলে চট্টগ্রামের মানুষ বিএনপির প্রার্থীকেই বেছে নেবে। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তা-ঘাটে ভোটাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। সহিংসতা ও ভোট কারচুপি’র শঙ্কার কারণে ভোটারদের মধ্যে যে নির্বাচনবিমুখতা বিরাজ করছে, সেখান থেকে বেরিয়ে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যাবে ভোটারা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি যত বাড়বে, ধানের শীষের বিজয়ের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে। এমনটা ভেবে আগে থেকেই ক্ষমতাসীনরা ভোটকেন্দ্রে যাতে ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম থাকে সেজন্য নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সক্রিয় নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ও এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাদের এলাকা ছাড়তে বলা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতেই সরকার করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। চসিক নির্বাচনে পূর্বে নির্ধারিত ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চার হাজার ৮৮৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন ৭৩৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, চার হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও নয় হাজার ৭৭২ পোলিং কর্মকর্তা।

পিডিএসও/এসএম শামীম

চসিক নির্বাচন,বিএনপি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close