ইন্টারনেট বন্ধের ঘোষণা থেকে সরে দাঁড়াল কেবল ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২০:১৩ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২০:২২

হাসান ইমন
ফাইল ছবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ঝুলন্ত ইন্টারনেট ও ডিসের তার কাটার প্রতিবাদে ইন্টারনেট ও ডিস ব্যবসায়ীরা সারা দেশে ৩ ঘণ্টা সেবা বন্ধের ঘোষণা থেকে সরে দাঁড়ালেন। শনিবার সন্ধ্যায় ইন্টারনেট ও ডিস কেবল সেবা সংগঠন দুটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেয়া হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে ডাক ও টেলিযোগযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে কোয়াব ও আইএসপিএবি গুরুত্ব অনস্বীকার্য। আপনারা করোনাকালীন সময়েও নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছেন। এসময়ে এসে একটু সমস্যার মুখামুখী হয়েছেন। এই সমস্যার সমাধান হবে। আপনার দুই একদিন সময় দেন। 

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগ কেবল না কাটতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রণালয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে তিনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছেন। কিন্তু উত্তর সিটি করপোরেশন ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগ কেবল অপসারণ বন্ধ রাখে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, আইনমন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিস্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই এ বিষয় নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আপনারা বন্ধের ঘোষণা থেকে সরে আসেন। আর সাত দিন সময় দেন। এরমধ্যে সামধান হবে। 

ইন্টারনেট সেবা সংগঠন আইএসপিএবি’র সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, সিটি করপোরেশন কোন রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত ৫ আগস্ট থেকে ঝুলন্ত কেবল অপসারন শুরু করে। সে থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এবং জিডিপির অগ্রগতিতে আমাদের অবদান রয়েছে। আমরা এই সেবা জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দিতে চাই। 

ডাক ও টেলিযোগযোগমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সম্মান জানিয়ে রোববার ইন্টারনেট সেবা বন্ধের ঘোষণা স্থগিত করলাম। 

অপর সংগঠনের (কোয়াব) সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ বলেন, করোনাভাইরাসের মধ্যেও আমাদের কর্মচারীরা নাগরিকদের সেবা দিতে সবধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এরমধ্যে কয়েকজন কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তারপরেও আমরা সবধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সম্প্রতি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে অনেক আর্থিক ক্ষতি করেছে। তিনি আরও বলেন, আপনাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে রোববার ডিস সংযোগ সেবা বন্ধের ঘোষণা স্থগিত করলাম। 

এদিকে আইএসপিএবি ও কোয়াব’র ডাকা সেবা বন্ধের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. রাসেল সাবরিন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দেশের বাইরে রয়েছে। তিনি আজ দেশে আসবেন। রোববার নগর ভবনে আসলে ইন্টারনেট ও ডিসকেবল প্রতিনিধিরা মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে যে কোন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মো. রাসেল সাবরিন আরও বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইন্টারনেট ও ডিসের তার অপসারণ করেছি। রোববার থেকে ফের অপসারণের কাজ চলানো হবে কিনা সেটি মেয়র মহোদয় সিদ্ধান্ত দেবেন। যেসব তার ঝুলে মানুষের শরীর পর্যন্ত আসছে সেগুলো কেটে দেয়া হয়। সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এ বলা আছে- সিটি করপোরেশন এলাকায় কোন ব্যবসা করতে গেলে মেয়রের অনুমোদন লাগবে। রাস্তায় পাশে ইলেক্ট্রনিক পোল ব্যবহার করছে কিন্তু ফি পরিশোধ করছে না। ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগ মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে সিটি করপোরেশন।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই ডিএসসিসির বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নগরীতে অবৈধ দৃষ্টিকটূ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাবল অপসারণ করার ঘোষণা দেন। মেয়রের এমন ঘোষণার পর ৫ আগস্ট থেকে নগরজুড়ে ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণে নামে ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পিডিএসও/এসএম শামীম