প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

কৃষকদের সঙ্গে মোদি সরকারের প্রথম দফা বৈঠক ব্যর্থ

কৃষকদের তুমুল আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করল ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। উপায় না পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোদির তিন মন্ত্রী কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে কাক্সিক্ষত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষকরা। গতকালও পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ মিছিল নিয়ে রাজধানীর পথে দেখা গেছে। খবর এনডিটিভি, আনন্দবাজার ও ডয়েচে ভেলের।

ভারতের বিতর্কিত নতুন কৃষি আইনের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন কৃষকরা। দিল্লি চলো স্লোগানে পাঞ্জাব, হরিয়ানাসহ ছয়টি রাজ্য থেকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেন কৃষকরা। তাদের প্রতিহত করতে দিল্লির আশপাশে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিয়ে বাধা দেয় পুলিশ। বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় নিরাপত্তা সদস্যদের। একপর্যায়ে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে কৃষকদের আলোচনায় বসতে অনুরোধ করেন।

------
 

এ নিয়ে দিল্লির বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার বাড়িতে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই তিন মন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বৈঠকে কোনো সুরাহা না হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে আবার বৈঠকে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে রাজিও হয়েছেন কৃষক প্রতিনিধিরা। তবে কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর আগামীকালের বৈঠকের জন্য কৃষক প্রতিনিধিদের কমিটি করে নাম জমা দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তাতে রাজি হননি কৃষকরা। এ ব্যাপারে কৃষক সংগঠন ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রুপ সিং বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রস্তাব মেনে বিশেষ কমিটি করায় রাজি নই। এখন আর সেই সময় নেই। কোনো সমাধান না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

কৃষকরা ট্রাক ও ট্রাক্টর নিয়ে কার্যত দিল্লি ঘিরে ফেলেছেন। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, রাজস্থান ও কেরালা থেকে কৃষকরা বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। ব্যারিকেড তৈরি করে, লাঠিপেটা করে, জলকামান দেগে, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়েও তাদের দিল্লি আসা আটকাতে পারেনি পুলিশ।

কৃষকদের প্রধান দাবি দুটি। কৃষি আইনের সংশোধন করে করপোরেটের সুবিধা করে দিয়ে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। আর সরকার যে ফসলের ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য বেঁধে দেয়, তাকে আইনি মর্যাদা দিতে হবে। অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি যদি ফসল কেনেন, তাহলে ওই দামেই কিনতে হবে। না দিলে তাদের শাস্তি হবে। এ ব্যবস্থা না করলে ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য বেঁধে দিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না কৃষকদের। কারণ তাদের উৎপাদনের অনেকটাই বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতে হয়। তখন তারা অনেক কম দাম পান। সরকার এখন এই দাবি মানে কি না সেটাই দেখার।

ভারতের কৃষকদের পাশে আছি : ট্রুডো

ভারতের বিতর্কিত নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ভারত জুড়ে চলমান আন্দোলনে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কানাডা সব সময় অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশে আছে। কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে ট্রুডো বলেন, ভারত থেকে কৃষকদের প্রতিবাদের যেসব খবর আসছে, তা স্বীকার না করলে আমার অনুশোচনা হবে। পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের। আমরা সবাই কৃষকদের পরিবার এবং বন্ধুদের জন্য চিন্তিত।

তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের পক্ষে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন। ট্রুডো বলেন, শান্তিপূর্ণ অধিকার রক্ষায় সব সময় পাশে থাকবে কানাডা। আমরা আলোচনায় বিশ্বাস রাখি। সেজন্যই এই উদ্বেগের বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সরাসরি জানাব।

ভারত জুড়ে সহিংস কৃষক আন্দোলন সামাল দিতে মোদি সরকার যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখনই এমন মন্তব্য করে আগুনে ঘি ঢাললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়