করোনায় আটকে গেছে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাস উলট-পালট করে দিয়েছে বিশ্ব রাজনীতি। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। প্রাণঘাতি এই ভাইরাস ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আটকে দিয়েছে। ফলে সাতমাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি সংগঠনটি। তবে শুধু যুবলীগই নয়, কৃষকলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অবস্থাও একই। গেল বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের বিভিন্ন তারিখে ৪ সংগঠন ও মূল দলের জাতীয় সম্মেলন হয়।

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমারোহে ৬ নভেম্বর কৃষকলীগ, ৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের একমাত্র ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বহুল আলোচিত-সমালোচিত যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস হয় ২৩ নভেম্বর। আর ও ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন হয়। সম্মেলনের পরপরই আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলেও আটকে যায় চার এ সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

দীর্ঘ সাতবছর পর অনুষ্ঠেয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন হয় গেল বছরের ১৬ নভেম্বর। সম্মেলনে দলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহকে সভাপতি ও আফজালুর রহমান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

তিনমাস আগে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু জানান, তিনমাস আগে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছি। বিষয়টি আমাদের নেত্রী দেখছেন। করোনার কারণেই হয়তো ঘোষণা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী যখন অনুমতি দিবেন তখনই এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কৃষকলীগের ১১১ সদস্যর কমিটি জমা দেয়া হয় সম্মেলনের এক সপ্তাহের মধ্যেই। তারপর বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতা এবং মুজিব বর্ষের কারণে তাৎক্ষণিক কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।আর চলতি বছরে যুক্ত হয়েছে মহামারি করোনা। সবকিছু মিলেই আটকে আছে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিও।

সংগঠনটির সভাপতি সমীর চন্দ্র বলেন, পুরনো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি ও সম্পাদকসহ আমরা ১১১ সদস্যের কমিটি জমা দিয়েছি। এরমধ্যে আর ঘোষণা দেয়া হয়নি। আশা করছি করোনা সংক্রমণ কেটে গেলে আমাদের কমিটি ঘোষণা হবে।

২৩ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে দলের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা।

সম্মেলনের আগে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ের দায়ে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন কারাগারে। সবমিলিয়ে এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন দলের দুই নীতি নির্ধারক। আর এরই মধ্যে মহামারি করনোর কারণে আটকে যায় সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা।

একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ। শ্রমিক নিয়ে কাজ করা এ সংগঠনটিরও সাংগঠনিক কর্মকা- স্থবির হয়ে পড়েছে। গেলো বছর ৯ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টুকে সভাপতি ও আজম খসরুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সম্মেলন হয় গেলো বছর।

 

"