মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

৫০ বছরেও দেখা মেলেনি বেড়িবাঁধের

পানগুছি নদীর ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের মানচিত্র। প্রতিদিন ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। বসতবাড়িসহ বহু প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট চলে গেছে নদীতে। গত ৫০ বছরে পানগুছি নদীর আয়তন বেড়েছে তিন গুণ। এক কিলোমিটারের বেশি প্রস্থ হয়েছে এখন নদী। দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই এই নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করা হলেও ৫০ বছরে বেড়িবাঁধের দেখা মেলেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানগুছি নদীর তীরবর্তী গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকটি এরই মধ্যে পরিত্যক্ত হয়েছে। বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, কাঁচা-পাকা রাস্তা। অনেক পরিবার ভাঙনের কবলে বাড়িঘর হারিয়ে শহরমুখী কিংবা অন্যত্র বসবাস করছে। কমিউনিটি ক্লিনিকটিও ভাঙনের মুখে। আতঙ্কে রয়েছে নদীর তীরবর্তী ৩০টি পরিবার। গাবতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, মসজিদ, খাউলিয়া ও গাবতলা ব্রিজ এখন হুমকির মুখে।

গত ৫০ বছরে উপজেলা সদর থেকে নদীতে চলে গেছে খাদ্যগুদাম, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, টেলিফোন অফিস, আবদুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এসিলাহা উচ্চবিদ্যালয়ের মূল ভবন, ডাকবাংলো, বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ কোয়ার্টার, আনছার ময়দান, বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোস্ট অফিস, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের অফিস, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, থানা মসজিদ, সার্বজনীন হরিসভা মন্দির, শ্মশান ঘাটসহ বহু প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট। বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে গাবতলা, কাঁঠালতলা, বারইখালী, ফেরিঘাট, কুমারখালী, সন্নাসী, শ্রেণিখালী, ঘষিয়াখালী, সোনাখালী, ফুলহাতাসহ ২০টি গ্রাম। কয়েক বছর ধরে পানগুছি নদীর ভাঙনে শুধু মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ৪০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। গাবতলা গ্রামের ২৫ একর জমি চলে গেছে নদীতে। সিডর, আইলা, ইয়াসের পরও ভেঙে যাওয়া বাঁধ স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় সংদস্য সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি গাবতলা-পশুরবুনিয়া অভিমুখে আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য ডিও লেটার দেন। ডিও লেটারে বলা হয়, স্বাধীনতার আগে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল যা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বছর মে মাসে বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই সময় উপজেলার বারইখালী, বহরবুনিয়া, বলইবুনিয়া ও পঞ্চকরণ ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে নদীশাসন কার্যক্রম শুরু হবে। রাস্তা-ঘাট পুনর্নির্মাণ করা হবে। সন্ন্যাসী-ঘষিয়াখালী পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন করে ভাঙনের বিষয়টিও জানানো হবে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close