বাগেরহাট প্রতিনিধি

  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাগেরহাটে নিউমোনিয়ার প্রকোপ

এক মাসে চিকিৎসা নিয়েছে ১০ হাজারের বেশি শিশু

বাগেরহাটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালে গত একমাসে ১০ হাজারের অধিক শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। আর বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি শিশুদের পরিসংখ্যান মিলিয়ে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

গত কয়েকদিনে বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দায় চিৎকিসা দেওয়া হচ্ছে। জেলার ৯টি উপজেলায় গত ১৫ আগস্ট থেকে নিউমোনিয়া অক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এসব শিশুর অধিকাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভাদ্র মাসের গুমট গরম, হটাৎ বৃষ্টির ঠান্ডাজনিত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় বাগেরহাট সদরসহ ৯টি উপজেলায় নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতি বছর আবহওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হলেও হটাৎ করে গত ১৫ আগস্ট থেকে জেলাজুড়ে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিন নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত অসুস্থ শিশুদের নিয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতাল ছুটছেন অভিভাবকরা।

গত কয়েক দিনে বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হটাৎ বাগেরহাটের সরকারি হাসপাতাল আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

বাগেরহাট সদর হাসপাতাল শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শিহান মাহমুদ বলেন, সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা ২৪টি। গত ১৫ আগস্ট থেকে নিউমোনিয়া অক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছে। গত কয়েকদিনে হাসপাতালসহ ধারণ ক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় চাপ সামাল দিতে মেঝে ও বারান্দায় ও রোগী ঠাঁই দিতে পারছি না। এসব শিশুর অধিকাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গত একমাসে শুধু জেলা সদর হাসপাতালে সাড়ে ৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। আর সময়ে জেলা ও উপজেলা হাসপালতালে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন জেলার এই শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close