চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

  ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

চৌদ্দগ্রামে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চলতি মৌসুমে একাধিক জাতের আখের চাষ হয়েছে। আর ফলনও হয়েছে বাম্পার। যার ফলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। খরচের তুলনায় বাজার আখের ভালো দাম থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। জমিগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির আখ দেখতে দূর-দূরান্ত অনেকে ছুটে আসছেন। বাহারি রঙের আখগুলো দেখতে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে। কৃষককুল ব্যস্ত আখের পরিচর্চা নিয়ে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ২৫ হেক্টও জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আরো ৫ হেক্টর বেশি আবাদি জমিতে কৃষক আখ চাষ করেছে। এবার সিও ২০৮, বিএস আর আই ৪১ (অমৃত) এবং বিএস আরআই, স্থানীয় (রংবিলাস) ও চায়না বোম্বাইসহ একাধিক জাতের আখ চাষ হয়েছে।

আলকরা থেকে কাশিনগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা জুরে আগের তুলনায় আখ চাষ অনেক অংশে বেড়েছে। ’৯০ এর দশকে কৃষকরা এটিকে পেশা হিসাবে নিলেও বর্তমানে ফলন লাভজনক হওয়ায় এই কাজে কৃষকরা উদ্ভধ্য হচ্ছে বেশি। বাজারে আখের বেশ চাহিদা থাকায় ক্রেতাদের গুনতে হয় বাড়তি টাকা।

উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে সাপ্তাহিক বাজারগুলোতে কিছু প্রান্তিক কৃষক মাচা তৈরি করে বিক্রির জন্য ওাঠনো হয় এই রসালো আখ। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী এই আখকে মেশিনে চিবিয়ে প্রতি গ্লাস রস ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। আবার অনেকে আখ রসকে বোতলে ভরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে অসুস্থ রোগীকে খাওয়ানোর জন্য।

উজিরপুর ইউনিয়নের বল্লবপুর গ্রামের কৃষক জাফর উল্লাহ জানান, এবার আমি ১৮ শতক জমিতে সিও ২০৮ জাতের আখচাষ করি এতে আমার খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছি। এতে আমি খুশি। পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আলি আহম্মদ জানান, ২৫ শতক জমিতে আখ চাষ করেছি। এই পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছি। আশা করি ১ লাখ টাকা আমার লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কৃষকদের আধুনিক জাত ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণে আখ চাষের জন্য উদ্বুব্ধ করা হচ্ছে। চৌদ্দগ্রামের মাটিও জলবায়ু আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগি। কৃষকদের সহযোগিতা করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছি। আমার অফিসারদের বলব এই পেশায় যারা আছে তাদের উৎসাহ প্রদান করার জন্য।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হাসিবুর রহমার জানান আখের রস মানবদেহের জন্য অত্যান্ত একটি পুষ্ঠিকর উপাদান। এটি মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ায়। ব্রেইন সঞ্চালনের জন্য আখ রসের কোন বিকল্প নেই। সবাইকে বলব বেশি বেশি আখ রস খান।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close