অল্প পুঁজিতে অনলাইন ব্যবসা করে স্বাবলম্বী শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

মিনহাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করা মুমিন আনসারী। বেশ কয়েকবার চাকরির চেষ্টা করেও মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় চাকরি হয়নি তার। তবে চাকরি না পাওয়ার হতাশায় বসে থাকেননি তিনি। নিজ উদ্যোগে শুরু করেছেন অনলাইনে শুঁটকি মাছের ব্যবসা। এখন প্রতিমাসে শুঁটকি বিক্রি করে তার মাসিক আয় ২০ হাজার টাকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ‘শুঁটকি পল্লী’ পেজ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে কক্সবাজারের শুঁটকি। মুমিন আনসারী বলেন, ভার্সিটি শেষে চাকরি খোঁজার প্রতি নেশা জাগেনি। ছোটবেলা থেকেই নিজের মতকে প্রধান্য দেওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল। তারপরও পারিবারিক সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন চাকরিতে কয়েকবার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি এবং অকৃতকার্য হয়েছি। তারপর থেকেই নিজে কিছু একটা করার ইচ্ছা জাগে। পরবর্তী সময়ে অর্গানিক শুঁটকি নিয়েই কাজ করছি। প্রথমদিকে সাড়া পাওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, মানুষ কেন আমার কাছ থেকে পণ্য কিনবে? পণ্যের মান ভালো হওয়ায় অনলাইনে গ্রাহকের রিভিউর হাত ধরে নতুন গ্রাহকেরা আমাদের সন্ধান পায় এবং পণ্যের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতি মাসে আমরা চারবার ডেলিভারি দিই। প্রতি সপ্তাহে একবার করে। গত মাসে আমরা মোট ডেলিভারি দিয়েছি প্রায় দুই মণ বা ৮০ কেজির মতো। সবই খুচরা ক্রেতা। মুমিন আনসারী ছাড়াও অনলাইনে পণ্য বিক্রি করে সফল হয়েছেন অসংখ্য শিক্ষিত তরুণ। এখন ঘরে বসেই সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হাতে পাচ্ছে মানুষ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এসব পণ্য। এমনকি করোনাকালীন সবকিছু স্থবির থাকলেও পুরোদমে চালু ছিলো এই ব্যবসা। করোনার সময় অন্যান্য সময়ের চেয়ে অর্ডার আরো বেড়েছে। একজনের সফলতা দেখে আগ্রহী হচ্ছে আরো অনেকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস পুষ্পি শুরু করেন বিউটিফ্লাই বাই পুষ্পি অনলাইন শপ। এই শপের মাধ্যমে বিক্রি করছেন মহিলাদের মেকআপ প্রোডাক্ট। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে মেকআপের প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসা থেকে লকডাউনে মেকআপ প্রোডাক্টের ব্যবসা শুরু করি। ছোটবেলা থেকে মেকআপ প্রোডাক্ট কোনটা বেস্ট হবে সেটা সবসময় খুঁজে খুঁজে বের করতাম। হয়তো সবসময় বাজেট থাকত না কেনার, তাও আমি লিস্ট করে রাখতাম। পছন্দের মেকআপ নিয়ে কাজ করে মাসিক আয় হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো। মহিলা বলে প্রোডাক্ট স্টক করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সবসময় ক্রেতাদের জন্য অরিজিনাল টাই বেছে আনার চেষ্টা করি। এতে ক্রেতারাও সন্তুষ্ট। লকডাউনের সময় অনলাইনে চিটাগং এক্সপ্রেস ফেসবুক পেজ মাধ্যমে মধু ও সরিষার তেল বিক্রি করে সফলতা পান চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদ উল্লাহ।

তরুণদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম।

 

 

"