বরিশাল প্রতিনিধি

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বরিশালে হত্যা মামলার সাক্ষীকে হত্যাচেষ্টা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার আলোচিত শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী নান্না ওরফে নান্নান মামলার সাক্ষী ও তার কন্যাশিশুকে কুপিয়ে জখম করেছে। একই সঙ্গে মামলার বাদী বকুল বেগমকেও বেধড়ক পেটানো হয়েছে। এদিকে আহত ১০ বছরের শিশুকন্যা মিলি ও সাক্ষী মাহাবুবুর রহমানকে অব্যাহত হুমকি দেওয়ায় হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটলেও দেশীও অস্ত্র নিয়ে নান্না ও তার বাহিনী মহড়া দেওয়ায় ভয়ে আতঙ্কে থানা পর্যন্ত যেতে পারেননি ওই ভুক্তভোগীরা। এর আগেও কয়েক দফা হামলা করা হয় তাদের ওপর। যাতে সাক্ষী না দেওয়া হয় তার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমি দখলের প্রতিবাদ করায় উজিরপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামকে ২০১৫ সালে জনসম্মুখে কুপিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আঞ্চলিক প্রতারক চক্রের প্রধান নান্নান। সেই মামলায় নিহতের স্ত্রী বকুল বেগম বাদী হয়ে নান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সাক্ষী রাখা হয় নিহতর ভাই বড় ভাই মাহাবুবুর রহমানকে। বর্তমানে বিচারাধীন ওই মামলাটি বরিশাল ১নং অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে সাক্ষী পর্যায়ে রয়েছে। বাদী বকুল বেগম ও সাক্ষী মাহাবুব আদালতে যাতে সাক্ষী না দেয় সেজন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। সন্ত্রাসী নান্নার কথা না শুনায় গেল ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে বাদী ও সাক্ষীকে পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। সেই সঙ্গে মাহাবুবের একমাত্র শিশুকন্যাকেও মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়। উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলেও অব্যাহত হুমকির কারণে শিশুকন্যাকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন আহত মাহাবুব। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আবারও চিকিৎসা নিতে দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ব্যাপারে মামলার বাদী বকুল বেগম জানান, আমরা আদালতে মামলা চালাতে যাতে না যাই সেজন্য সন্ত্রাসী নান্নান আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন আমাকে এবং মামলার সাক্ষীসহ সবাইকে হত্যার উদ্দেশে ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা হয় আমাদের। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই নারী ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নান্নান শুধু উজিরপুরই নয় সে বৃহত্তর বরিশাল আঞ্চলের প্রতারক চক্রের প্রধান হোতা। সে কন্ট্রাক মার্ডারে অংশ নেয় বিভিন্ন জায়গায়। এমন কি জাল দলিল, জাল টিকিট ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ভূমি কর্মকর্তাদের নামে ভুয়া সিল বানিয়ে জমির জাল দলিল দিয়ে থাকে। একাধিকবার র‌্যাব পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল নান্নান। বিভিন্ন থানা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসী নান্নার বিরুদ্ধে হত্যা, প্রতারণা, জালিয়াতি হামলাসহ প্রায় ১৯টি মামলার চলমান আছে। এলাকার নীরহ মানুষ তার ভয়ে দিনাতিপাত করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নান্নান জানান, বাদী সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে মারামারি হয়নি। মূলত গাঁজা কেনাবেচা নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে আমার স্ত্রীও কম বেশি আহত হয়েছে। আমি থানায় অভিযোগও দিয়েছি। অপরদিকে জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশাসন আমাকে বেশ কয়েকটি জালিয়াতির মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। সেগুলো আমি আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করছি। এ বিষয়ে উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আরশাদ বলেন, হত্যা মামলার বাদী সাক্ষীর ওপর হামলার ঘটনার সত্যতা আছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযানে নামব।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close