ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ রোমাঞ্চ ছড়াবে
‘চেষ্টা করব সর্বোচ্চ ভালো ক্রিকেট খেলতে’

ফুটবল বিশ্বকাপের দামামা বেজে গেছে। এখন শুধু টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর অপেক্ষা। আগামী দেড় মাস পুরো বিশ্ব বুঁদ হয়ে থাকবে বিশ্বকাপ উন্মাদনায়। ঠিক এ সময় চলবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের উন্মাদনার মধ্যেও এই সিরিজ বেশ রোমাঞ্চকর হবে বলে আশা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিসের।
১১ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ মাঠে গড়াচ্ছে তার আগেই। মিরপুরে আজ মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। বিশ্বকাপ উন্মাদনার মাঝে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আলাদা রোমাঞ্চ না থাকলেও ইংলিস ভাবছেন ভিন্ন কিছু।
ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বলেন, ‘এই সিরিজ (বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া) খুবই রোমাঞ্চকর হচ্ছে। আগেই বলেছি, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ একে অপরের মুখোমুখি বেশি হয় না।’
মিরাজ বলেন, ‘চেষ্টা করব সর্বোচ্চ ভালো ক্রিকেট খেলতে। আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী (দল নিয়ে), সবাই ভালো ফর্মে আছে এবং ব্যাটার-বোলাররা খুব ভালো টাচে আছে, ডিপিএলেও খুব ভালো খেলেছে সবাই। আমাদের জন্য এটা একটা বিরাট সুযোগ... যেহেতু অস্ট্রেলিয়া আমাদের সঙ্গে অনেক বছর পরে সিরিজ খেলছে, আর আমাদের যেহেতু ঘরের মাঠ সুযোগটা আমরা নিতে পারলে খুবই ভালো হবে।’
নিজেদের জায়গা থেকে সেরা পারফর্ম করেই জিততে চান টাইগার অধিনায়ক, ‘আমরা এর আগেই শুনেছিলাম দুজনের না আসার বিষয়টা, কিন্তু কালকে নিশ্চিত হয়েছি। তবুও আমরা দল হিসেবে চিন্তা করছি। ওরা যে দলটা এসেছে, অবশ্যই ওরা অনেক ভালো দল এবং অনেক শক্তিশালী। আমরা আমাদের ভূমিকা পালনের চেষ্টা করব। ওদেরকে নিয়ে বেশি চিন্তা না করে আমাদের জায়গা থেকে পারফর্ম করার চেষ্টা করব।’
সবশেষ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছে অ্যান্টিগায় ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে আরো আগে। ২০২১ সালে বাংলাদেশে এসে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ রোমাঞ্চকর হবে বলে আশা ইংলিসের। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বলেন, ‘অনেক রোমাঞ্চিত আমরা। বাংলাদেশের সঙ্গে খুব বেশি খেলা হয় না, বিশেষ করে বাংলাদেশের মাঠে। প্রথমবার আমি এসেছি এখানে। অনেকেই এসেছে প্রথমবার।’
ওয়ানডেতে এক বছর আগেও যে বাংলাদেশ ঘুরপাক খাচ্ছিল হারের বৃত্তে, সম্প্রতি এই সংস্করণে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে দারুণভাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড- এই তিন দলই বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে। তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্তরা যেমন নিয়মিত রান করছেন, নাহিদ রানা-মুস্তাফিজুর রহমানরাও বোলিং জাদুতে ভড়কে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষ দলকে। ফিল্ডিংও হচ্ছে অসাধারণ।
ইংলিসের মতে এবারের বাংলাদেশ সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে অজি অধিনায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং।
ঘরের মাঠে তারা অবশ্যই অনেক ভালো দল। আমরা সবাই এই সিরিজ নিয়ে বেশি রোমাঞ্চিত। এখনো দল ঠিক করিনি। উইকেট ভালোভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে হবে ১১ ও ১৪ জুন। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ভেন্যু বদলাতে হবে দুই দলকে। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে হবে তিন টি-টোয়েন্টি।
"









































