রিফাত আনজুম

  ২৮ নভেম্বর, ২০২১

পাল্টা জবাব পাকিস্তানের

চট্টগ্রাম টেস্টে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে গতকাল আবার ব্যাকফুটে চলে গেছে বাংলাদেশ। মুশফিক-লিটনের বীরত্বের পর হতাশার একটা দিন পার করেছে বাংলাদেশ। হাসান আলীর দারুণ বোলিংয়ে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ৩৩০ রানে। জবাবে বিনা উইকেটে ১৪৫ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান পিছিয়ে ১৮৫ রানে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের জবাবটা বেশ ভালোভাবেই দিচ্ছে সফরকারী দল।

সাগরিকায় আরো একটি সুন্দর সকালের অপেক্ষায় দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। তবে দিনের শুরুটা আর ভালো হয়নি। বড় সংগ্রহের পথে প্রথম বাধা আসে তৃতীয় ওভারে। ১১৩ রানে অপরাজিত থাকা লিটন দাস নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহের সঙ্গে এক রান যোগ করে ১১৪ রান করে বিদায় নেন। হাসান আলীর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। প্রথমে আম্পায়ার সাড়া না দিলে পাকিস্তানের নেওয়া রিভিউয়ে রক্ষা পাননি লিটন। এ আউটে ভাঙে বাংলাদেশের ২০৬ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।

অভিষিক্ত ইয়াসির আলী রাব্বি চার মেরে নিজের ব্যক্তিগত রানের খাতা খুলে ভালো শুরুর আভাস দেন। কিন্তু অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি লোকাল বয় রাব্বি। ৪ রান করে হাসান আলীর বলে বোল্ড হন তিনি। ৮২ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক এবং মেহেদী হাসান মিরাজ দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন। তবে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ানো মুশফিক সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে হতাশ করেছেন। ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়েছেন তিনি। ৯১ রান করে ফাহিম আশরাফের বলে উইকেটের পেছনে রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন মুশফিক। ২৭৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের পথে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।

মিরাজের ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ৩০০ পেরোয়। স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে একাই দলের রানটা সচল রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তাইজুল ইসলাম তাকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চেষ্টাটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১১ রান করে শাহীন আফ্রিদির বলে স্লিপে আবদুল্লাহ শফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে দলীয় ৩০৪ রানের সময় আউট হন। মিরাজ একাই স্ট্রাইক নিয়ে আবু যায়েদ রাহিকে সঙ্গে নিয়ে রানটা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। রাহিও তাইজুলের পথ অনুসরণ করেন। ৮ রান করে হাসান আলীর বলে স্লিপে শফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। পরের বলেই এবাদত হোসেনকে বোল্ড করে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন হাসান আলী। মধ্যাহ্ন বিরতের আগেই ৩৩০ রানে আলআউট হয় বাংলাদেশ। সঙ্গীর অভাবে মিরাজ ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে পাকিস্তান বেশ দেখেশুনেই শুরু করে। তবে বাংলাদেশের নির্বিষ বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের দুই ওপেনার আবিদ আলী ও আবদুল্লাহ শফিক বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যাটিং করতে থাকেন। বাংলাদেশ ১৩তম ওভারে আউটের একটা সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করে। তাইজুল ইসলামের করা সে ওভারে স্ট্যাম্প বরাবর ভেতরের দিকে ঢোকা বলটি শফিক জায়গা করে খেলতে গেলে আগে প্যাডে লেগে ব্যাটে লাগে। এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করলেও সাড়া দেননি আম্পায়ার। তবে বল আগে প্যাডে লেগেছে নাকি ব্যাটে লেগেছে সে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আর রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় পরিষ্কার এলবিডব্লিউ ছিল সেটি। দ্বিতীয় সেশনে বিনা উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় পাকিস্তান। টেস্টে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন আবিদ।

তৃতীয় সেশনেও পাকিস্তান বেশ দাপট দেখিয়েছে। বাংলাদেশের নখদন্তহীন বোলিংয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তানের দুই ওপেনার। চেষ্টা করেও পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। বেশ আস্থার সঙ্গেই ব্যাটিং করতে থাকে আবিদ ও শফিক। ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দিকে এগুতে থাকেন আবিদ। উদ্বোধনী জুটিও শতরান পেরোয়। দিনে শেষ দিকে অভিষেক টেস্টেই ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন শফিক। দিনশেষে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ১৪৫ রান। সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা আবিদ ৯৩ রানে অপরাজিত থাকেন। শফিক অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ৩৩০

(১১৪.৪ ওভার) প্রথম ইনিংস

লিটন ১১৪, মুশফিক ৯১, মিরাজ ৩৮*

হাসান ৫/৫১, ফাহিম ২/৫৪, আফ্রিদি ২/৭০, সাজিদ ১/৭৯

পাকিস্তান ১৪৫/০

(৫৭ ওভার) প্রথম ইনিংস

আবিদ ৯৫*, শফিক ৫২*

রাহি ০/৩০, এবাদত ০/৩১,

মিরাজ ০/৩৩, তাইজুল ০/৩৯

* দ্বিতীয় দিন শেষে

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close