নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৭ ঘণ্টা আগে

রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরাব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে ঢাকার ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনকে এ প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাস্তবায়ন কার্যক্রমে ডিএমপির সঙ্গে যুক্ত থাকবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত সোমবার রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন-সংক্রান্ত সভা হয়। ওই সভায় এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরাব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। প্রধান সড়কগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করতে ধাপে ধাপে এ আধুনিকায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ বা বিশেষ তহবিলের প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশের নিজস্ব তহবিল থেকেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, বাংলামোটর ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এসব সিগন্যাল বাতি তৈরি করে। বাতিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ম্যানুয়ালিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সিগন্যাল স্থাপনের এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এবং পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

চলতি বছরের ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এসব ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে ডিএমপি। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।

পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয় ১৯৬০-এর দশকে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। পরে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ৬৮ স্থানে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হলেও সেগুলো কার্যকর হয়নি এবং ২০০৯ সালের মধ্যে অচল হয়ে যায়।

এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরো ৯১টি ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল বাতি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

আবারও ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জাইকার ঋণে চারটি ইন্টারসেকশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল স্থাপন করা হলেও সেগুলো কিছুদিন পর অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে এআইনির্ভর বর্তমান উদ্যোগ স্বস্তির বার্তা দিলেও এর ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়