গাজী শাহনেওয়াজ

  ২৭ নভেম্বর, ২০২১

এবারও শঙ্কা সহিংসতার

মধ্যরাতে শেষ হয়েছে তৃতীয় ধাপের ১০০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচনী প্রচার। এবার পালা ভোটগ্রহণের। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতিও শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন ইসি। রাত পোহালেই হবে ভোট। তবে কমিশনের নানা পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি সত্ত্বেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটার, প্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের। এমনকি জেলা প্রশাসকরাও রাজনৈতিকসহ নানামুখী চাপে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা নিয়ে তাদের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন কমিশনকে। কারণ এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। আবার ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর চেয়ে বিদ্রোহীরা শক্তিশালী হওয়ায় নির্বাচন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই নির্বাচন ঘিরে ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে নির্বিঘ্ন ভোট হওয়া নিয়ে এবারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, দলীয় এমপিরা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। অনেকে আচরণবিধি ভেঙে নিজ প্রার্থীর প্রচারে নামছেন। এ কারণে কয়েকজন এমপিকে এলাকা ছাড়তে চিঠি দিয়েছে ইসি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ জমা পড়ছে। এ কারণেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সহিংস হয়ে উঠছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে চার দিনের জন্য মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। নির্বাচনী এলাকার প্রবেশদ্বারে শুরু হয়েছে তল্লাশি। কাল রবিবার ভোট শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে টানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সাধারণ ছুটি থাকবে ভোটের দিন। আজ কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে ভোটের সামগ্রী। ১০০০টির মধ্যে ৩৩টি ইউপিতে ভোট নেওয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে।

ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের ভোট নিয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা নেই। মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে ভোট শেষ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু ভোট দেখতে চাই। নিয়মের ব্যত্যয় হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।’

এদিকে কমিশনের নানামুখী পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি সত্ত্বেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটার, প্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের। এমনকি জেলা প্রশাসকরাও রাজনৈতিকসহ নানামুখী চাপে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা নিয়েও তাদের শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন কমিশনকে। ভোটের দিন বিজিবি ও র‌্যাবসহ আধাসামরিক বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতেও কমিশনের কাছে দেন-দরবার করছেন। মূলত নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েই ক্ষোভ-অসন্তোষ প্রশাসনের। এজন্য ডিসিদের অনুরোধে ৫৯টি ইউপিতে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সবই করা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া থাকবে। তল্লাশিচৌকি থাকবে নিরাপত্তারক্ষীদের। সন্দেহ হলে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ার একজন ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি; আমরা খতিয়ে দেখে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং কে কোন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন, সে প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। কাল ১০০০টি ইউপি ও ৯টি পৌরসভায় ভোট হবে। সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে সাতটি ইউপির ভোট স্থগিত। শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয় প্রার্থীদের প্রচার। আজ সারা দিন ব্যস্ত থাকবেন প্রার্থীরা নির্বাচনের পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ নানা ভোটের দিনের কলাকৌশল নির্ধারণে। মোটরযানের ওপরে নিষেধাজ্ঞা শনিবার মধ্যরাতের পর ইসির অনুমোদিত স্টিকারসংবলিত যানবাহন ব্যতিরেকে অন্য যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের তথ্যমতে, আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে মোতায়েন হওয়া ফোর্সের বাইরে ৫৯টি ইউপিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আরো অতিরিক্তি ১২৬ প্লাটুন বিজিবি, ৪৬ টিম র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন ও কোস্টগার্ড নিয়োগ করা হচ্ছে। বিভিন্ত প্রার্থী ও নির্বাচন কমিশনের মাঠ কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকদের অনুরোধে ইসি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কমিশন থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

উল্লেখ্য, ১০০৭টি ইউপিতে ২৮ ডিসেম্বর ভোট আয়োজনে তফসিল দেওয়া হলেও সংক্ষুদ্ধ প্রার্থীদের মামলাসহ নানা কারণে সাতটি নির্বাচন স্থগিত হচ্ছে। নতুন করে স্থগিত না হলে ১০০০টি ইউপির ভোট হবে।

ভোটের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হবে। তিনস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নির্বাচনী এলাকায়। সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা বদ্ধপরিকর।’

শেরপুরের জেলা প্রশাসক মমিনুর রশীদ বলেন, ‘পূর্ববতী ধাপগুলোতে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে; এ ধাপেও ওই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close