প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক কাদের খান মারা গেছেন

পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক আবদুল কাদের খান মারা গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার সকালে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে ফয়সাল মসজিদ চত্বরে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শোক প্রকাশ করেছেন। খবর বিবিসি ও ডনের।

রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, আবদুল কাদের খান ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রবিবার ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে মৃত্যু হয়। আবদুল কাদের খান করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিপি জানিয়েছে, করোনা শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৬ আগস্ট আবদুল কাদের খানকে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গত মাসে এই পরমাণুবিজ্ঞানী অভিযোগ করেছিলেন, তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোঁজখবর নেননি। তবে তার মৃত্যুর পর শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ড. আবদুল কাদির খানকে পাকিস্তানের মানুষ ভালোবাসত, কারণ তিনি দেশটিকে পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশে রূপান্তর করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন পাকিস্তানের একজন জাতীয় বীর।

আবদুল কাদের খানের মৃত্যুকে পাকিস্তানের জন্য বড় ক্ষতি বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাট্টাক। শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য তার (আবদুল কাদের খান) অবদানকে পাকিস্তান চিরকাল সম্মান করবে। আমাদের সামরিক সক্ষমতাকে সমৃদ্ধ করার জন্য আবদুল কাদের খানের কাছে আমরা ঋণী।’

আবদুল কাদের খানকে পাকিস্তানিরা ‘একিউকে’ বলেন। পাকিস্তানে দলমত-নির্বিশেষে তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। বেসামরিক সব খেতাবই পেয়েছেন। ভালোবেসে তাকে ‘মহসিন-ই-পাকিস্তান’ বলা হয়।

বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের পরমাণু বোমার অধিকারী হওয়ার পেছনে তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের কাছে পরমাণু বোমার গোপন তথ্যাদি পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০০৪ সালে ড. আবদুল কাদির খান পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করছেন সন্দেহে গ্রেপ্তার হন এবং এরপর পাঁচ বছর আটক ছিলেন। ২০০৯ সালে তার আটকাদেশ সরকার প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু এরপর তিনি আর কখনো জনসমক্ষে আসেননি।

ড. কাদির খানের জীবন :

ড. আবদুল কাদির খান ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল অবিভক্ত ভারতের ভোপালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে চলে যান। করাচিতে পড়ালেখার পর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইউরোপে যান। সেখানে ১৫ বছরের প্রবাস জীবনে তিনি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট বার্লিন, নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব ডেলফট এবং বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব ল্যুভেন এ পড়াশোনা করেন। ১৯৭৪ সালে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে ড. আবদুল কাদির খান পাকিস্তানে ফিরে যান। সে বছরই ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ স্থাপন করেন, যা ১৯৮১ সালে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হক ড. একিউ খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ নামকরণ করেন। পাকিস্তানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে এই ল্যাবরেটরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close