প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০

ক্ষমতা ছাড়ায় প্রক্রিয়ায় সম্মত ট্রাম্প

মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা বাইডেনের

অবশেষে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সবুজসংকেত দেন তিনি। এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুতির মধ্যেই রয়েছেন বাইডেন। গতকাল নতুন মন্ত্রিসভার ছয় সদস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন হোয়াইট হাউসের এই হবু বাসিন্দা। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদায়ী ও নতুন প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের কাজটি করে থাকে জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ)। তারাই পুরোনো প্রশাসনের কাছ থেকে নতুন প্রশাসনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কাজটি করে থাকে। তবে ট্রাম্প এতদিন পরাজয় স্বীকার না করায় তার নিযুক্ত জিএসএ প্রধান বাইডেনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিপত্র জারি করেননি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ী হওয়ার জন্য ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি জিতেছেন ৩০৬ ইলেক্টোরাল ভোট এবং ট্রাম্প ২৩২ ইলেক্টোরাল ভোট পান। তবে ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তিনি বরাবরই পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন।

------
শেষপর্যন্ত সোমবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, ‘জিএসএর কাজে তিনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে চান না। তাদের যেটি করণীয় তারা সেটিই করবেন।’

এভাবে জিএসএকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া চালানোর কথা বললেও নির্বাচনে নিজের পরাজয়ের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রাখার কথা বলেন ট্রাম্প। যদিও ভোট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। এমনকি জর্জিয়াসহ দুটি রাজ্যে ভোট পুনর্গণনা করেও ট্রাম্প কোনো সুফল পাননি।

এদিকে ট্রাম্পের টুইটের পর জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ) জানিয়েছে, তারা বাইডেনকে ‘আপাত বিজয়ী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

বাইডেন টিমও জিএসএর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ২০ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠনে প্রস্তুত বাইডেনের টিমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিএসএর সিদ্ধান্ত একটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ। আমাদের জাতির সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলার জন্য এ সিদ্ধান্তটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আমাদের অর্থনীতিকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এর প্রয়োজন ছিল।

এদিকে গতকাল নিজের নতুন মন্ত্রিসভার ছয় সদস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন বাইডেন। তাদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরকারী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব দিয়েছেন জো বাইডেন।

ওবামার শাসনামলের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন এবং জ্যাক সুলিভান পেয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব। ব্লিংকেন ও সুলিভান দুজনই ২০১৫ সালে জন কেরির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

মন্ত্রিসভার অন্য তিন সদস্য হলেন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী আলেজান্দার মায়োরকাস, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক অ্যাভরিল হাইনেস।

মন্ত্রিসভার ছয় সদস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বাইডেন বলেন, ‘আমি এমন একটি টিম নিয়ে কাজ করতে চাই যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে আমাকে সাহায্য করবেন, যাতে আমি বিশ্বের সামনে থাকা বৃহৎ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারি।’

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়