বিনোদন প্রতিবেদক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত উৎসব

সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গত ২৪ ও ২৫ জুন দুই দিনব্যাপী সঙ্গীত উৎসবের আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে দুপুর পর্যন্ত এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয। এবারের উৎসবের বিষয় ছিল রবীন্দ্র-নজরুল। সঙ্গীত উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সঙ্গীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়।
উৎসবে প্রথম দিন প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনসহ আরো অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘কবি কাজী নজরুলকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ করে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু নজরুল ছিলেন সর্বহারা ও শোষিত শ্রেণির কণ্ঠস্বর। তার দ্রোহ ও কবিতা চিরকাল আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে উদ্বুদ্ধ করবে।’ একই সাথে তিনি রবীন্দ্রনাথের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও পল্লী উন্নয়নে তার অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, বরং প্রকৃত মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। দেশ ও নিজেদের ঐতিহ্যকে জানতে হবে।
দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, শ্যামা রহমান, ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান, টিটু মুন্সীসহ আরো অনেকে। কবিতা আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরাও সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। উৎসবে সঙ্গীতশিল্পী ইফফাত আরা দেওয়ানকে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায় বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনার দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাদের সাহিত্য ও সংগীত নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’
"









































