হুমায়ুন কবির

  ০৮ ডিসেম্বর, ২০২১

দৃষ্টিপাত

প্রাথমিকে দশম গ্রেডের বাস্তবায়ন চান শিক্ষকরা

প্রাথমিক বিদ্যালয় কোনো গুদামঘর বা কারখানাও নয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি প্রবাহমান নদী। বলা যায় বৃক্ষও। বিদ্যালয় ভূমিতে বৃক্ষ প্রোথিত কিন্তু আকাশমুখী। সমাজকে সে ছায়া দেয়, আশ্রয় দেয়, ফলও দিয়ে থাকে। সমাজকে ঠিক করতে হবে এই বৃক্ষ কীভাবে বিকশিত হবে, কতটা উপকারী হবে।

বাংলাদেশের বিস্তৃত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সামাজিক অবস্থান আর মর্যাদা এখন এক বড় সমস্যা। সংখ্যায় নগণ্য নয়, তবুও সমানভাব গণ্য নয় তারা। গণ্য হওয়াটা তাদের স্বাভাবিক অধিকার। কিন্তু কেন? সন্দেহ নেই যে গত পাঁচ দশকে তারা শুধু শিক্ষা বিস্তারই নয় সামাজিক উন্নয়ন তথা সরকারের নানা কাজ পারদর্শিতার সঙ্গে সম্পাদন করে চলছেন এবং তা রবি রশ্মির শ্বেতশুভ্র দ্যুতির মতো প্রাথমিকের সীমানা ছাড়িয়ে উচ্চ মহলেও প্রশংসিত। কিন্তু এ রাষ্ট্রে নিঃশেষে অবদান রাখা প্রাথমিক শিক্ষকরা আজও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে অলক্ষিত ও উপেক্ষিত। আর এভাবেই চলতে থাকলে রাষ্ট্রের দিকেই ধেয়ে আসবে এক কালবৈশাখী ঝড়। তখন উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কেবল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে তা নয়, হারিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন এবং ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক অর্জনের সফলতা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মতো একই যোগ্যতা (স্নাতক), একই কারিকুলাম, একই সিলেবাস ও একই শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা পিটিআই-সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড দশম (দ্বিতীয় শ্রেণি) আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম (তৃতীয় শ্রেণি)। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রতি কেন এ বিমাতাসুলভ আচরণ? কেন অন্য ডিপার্টমেন্ট ও প্রাথমিক সহকারীদের মধ্যে গ্রেডের পার্থক্য থাকবে? সূর্যের আলোয় সবার যেমন সমান অধিকার তেমনি বেতন গ্রেডের অধিকারও সবার জন্য সমান হওয়া বাঞ্ছনীয়। এটি প্রাথমিকের প্রায় সব শিক্ষকের অভিমত। স্নাতক যোগ্যতায় অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে এখন দশম গ্রেড বিদ্যমান। যেমন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, প্রদর্শক-কলেজ, সহকারী গ্রন্থাগারিক/ক্যাটালগার, পুলিশের এসআই, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইত্যাদি। HSC+ ডিপ্লোমা ইন নার্সিং যোগ্যতায় দশম গ্রেডে রয়েছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স/স্টাফ নার্সরা। এ ছাড়াও SSC+ কৃষি ডিপ্লোমা যোগ্যতায় দশম গ্রেডে রয়েছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা/উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা/উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা/ উপসহকারী প্রশিক্ষক/উপসহকারী সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তারা।

শিক্ষকতা সুমহান পেশা কেন আমাদের দৃষ্টির আড়ালে পড়ে আছে? তা ভাবতে গিয়ে লজ্জিতবোধ করছি। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিরন্তর চেষ্টায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ার প্রথম সোপান ও ২০১৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন। যা সোনার বাংলা গড়ার দ্বিতীয় সোপান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। কিন্তু গ্রেডিং বৈষম্যের কোনো সুরাহা হয়নি। যে সমাজ শিক্ষকের মর্যাদা দিতে পারে না সেই সমাজ বা সময় খুব ভয়ংকর। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বরাবর কেন নির্বিকার, নিশ্চুপ- এর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবি দশম গ্রেড বাস্তবায়ন।

তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, আমরা এ বৈষম্যের অবসান চাই। আর এই বৈষম্য নিরসনের মধ্য দিয়ে শুরু হোক মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত রাষ্ট্রে যাত্রা শুরু হওয়ার নতুন অধ্যায়। পায়ে পায়ে এগিয়ে চলুক এ দেশ। আর তারই গৌরবময় অংশীদার হোক সহকারী শিক্ষকরাও। প্রধান শিক্ষকদের নবম ও সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড আজ নিঃসময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের এ দাবি পূরণ করবেন, এটিই প্রত্যাশা।

লেখক : সহকারী শিক্ষক, কন্দর্পপুর সরকারি

প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর, ময়মনসিংহ

[email protected]

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close