reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৩ ডিসেম্বর, ২০২১

আলোয় আলোকিত হোক দেশ

বর্জ্য পরিবেশকে নষ্ট করে। রোগব্যাধি ছড়ায়। কিন্তু এই বর্জ্যই আবার বিশেষ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। যেমন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এর অন্যতম। আর এই প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে তাপশক্তির স্টোরেজ; যা বর্জ্য তাপের উপযোগিতা তৈরি বা উন্নত করতে পারে। বাংলাদেশে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছিল। এবার সেই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে দেশ। কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বলা বাহুল্য, বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা প্রয়োজন হবে, তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে না। বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আমিনবাজারে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে চীনা কোম্পানি। এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চীনা কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্লান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় জমি ও নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে। আর উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে বিদ্যুৎ বিভাগ। এটি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় ও জেলা শহর এমনকি পৌরসভাগুলোতেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান। যেসব বিভাগীয় বা জেলা শহর অথবা পৌরসভা প্রতিদিন ৬০০ টন ময়লা-আবর্জনা সরবরাহ করতে পারবে, তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সরাসরি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে। তবে কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা যেন প্রক্রিয়াটিকে গ্রাস না করে। আর এর সুফল থেকে যেন বঞ্চিত না হয় দেশের মাানুষ। কারণ দেশে এখনো বিদ্যুতের প্রবল ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতে বর্জ্য সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে- এমনটাই আমাদের বিশ্বাস। কারণ জাপান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যে মডেল অনুসরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে; তার চেয়ে বাংলাদেশের জন্য বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি সর্বোত্তম। এই পদ্ধতিতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়কে মøান ও অর্থহীন করতে এবং বাংলার মানুষ যাতে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে না পারে, সেজন্য ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা চাই, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হোক। পাশাপাশি সেই ষড়যন্ত্রের বীজ অঙ্কুরেই বিনাশ করে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে যে খ্যাতি অর্জন করেছে দেশ, তার কলেবর যেন আরো বিস্তৃত হয়। বর্জ্য বিদ্যুতের আলোয় নতুন করে আলোকিত হোক দেশ আর এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close