reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা মানুষের আয়ু কমাচ্ছে

বেঁচে থাকার জন্য কর্মই যাদের প্রধান অবলম্বন, তাদের জন্য বাড়তি কাজের মেয়াদ একমাত্র ভরসা। ক্ষুধা এমনই এক জৈবিক চাহিদা, যাকে অবজ্ঞা করার ক্ষমতা কারো নেই। প্রাণী অথবা জীবজগতের কারো পক্ষেই অবজ্ঞা করে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। মানুষের জন্য তো একেবারেই নয়। অন্যদের ক্ষেত্রে বিকল্প পথের সন্ধান করার ক্ষমতা না থাকলেও শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হিসেবে মানুষের তা আছে। আছে বলেই সে সন্ধান করে। সন্ধান করতে গিয়ে যুগে যুগে স্পার্টাগাছের জন্ম হয়। বৈষম্যের অবসান ঘটাতে গিয়ে দেশে দেশে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। তার পরও ক্ষুধা তার স্বীয় অবস্থানে অনড় এবং অটল। সময় এবং পরিবেশ তাকে এত বেশি বলবান করেছে। আর এই বৈষম্য তৈরির পেছনে মানুষই ভাগ্য নির্ধারণে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেছে। শুনতে হচ্ছে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টার জেরে বিশ্বে বছরে ২০ লাখ শ্রমিক মৃত্যুবরণ করছেন। আর এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে মানুষের একটি পক্ষকে দাঁড়াতে হচ্ছে আসামির কাঠগড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ কর্মঘণ্টাসহ কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত অসুস্থতা ও আঘাতে বছরে প্রায় ২০ লাখ লোকের মৃত্যু হচ্ছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে এই মৃত্যুঝুঁকি খারাপের দিকে আরো ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিবেদনের তথ্য মোতাবেক ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক রোগব্যাধি, আঘাত ও কর্মক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত চাপকে এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে কোভিডের কারণে কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশের নাটকীয় পরিবর্তনের প্রভাব এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তথ্য মতে, ২০১৬ সালে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই সব নেতিবাচক কারণে বিশ্বে ১৯ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করে, যা ২০০০ সালের চেয়ে দুই লাখ বেশি।

সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা হিসেবে বিবেচিত। ২০১৬ সালেই শুধু এই দীর্ঘ কর্মঘণ্টাজনিত কারণে ৭ লাখ ৫০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে। গবেষণা বলছে, ১৯টি পেশাগত ঝুঁকির কারণে এই প্রাণহানি ঘটেছে। পেশাগত ঝুঁকির মধ্যে কেবল বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে ২০১৬ সালে ৪ লাখ ৫০ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য মানুষের বোধোদয় হয়নি। পুঁজিবাদী অর্থনীতির ধর্ম মানুষকে মানবিক হতে দেয়নি। মুনাফা এবং অধিক মুনাফার পেছনে ছুটতে গিয়ে এইসব মানুষ বৈষম্যের মাত্রাকে বাড়াতে সাহায্য করেছে। মানবিক বোধকে হত্যার মধ্য দিয়ে মানবতার বাণী প্রচারে সর্বোচ্চ মেধার অপচয় করছে। একদিকে ধুঁকে ধুঁকে মরছে মানুষ, বিপরীতে জাতিসংঘের প্রতিরোধ স্লোগান। যে স্লোগানে নেই কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ক্রমান্বয়ে বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষই আজ জাতিসংঘের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নতুন পথের সন্ধানে আলো জ্বালানোর চেষ্টা করছে। তবে আলোকবর্তিকার সন্ধান এখনো মেলেনি।

এদিকে পুঁজির একচেটিয়া আগ্রাসন সমাজে যে বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে, তাকে কখনোই সমর্থন করা যায় না। জাতিসংঘও পারেনি সমর্থন জোগাতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, ‘এটা খুবই মর্মান্তিক যে, চাকরি ও কর্মক্ষেত্রে পরিবেশের কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।’ কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার জন্য এক দিন মানুষ বিদ্রোহ করেছে। জীবন দিয়ে তা আদায় করেছে। তারপরও এখনো সেই শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি সভ্যতার দাবিদার এই পৃথিবী। যদিও পৃথিবীতে কর্মহীন মানুষের

সংখ্যাও কম নয়।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close