মো. জিল্লুর রহমান

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পর্যালোচনা

তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তানের কূটনীতি

পাকিস্তান হাতেগোনা সেই কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি যে আমেরিকা ও চীনের সঙ্গে দশকের পর দশক ধরে সমানভাবে সম্পর্ক রেখে চলার পর শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এখন মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের মাধুর্য শেষ হয়ে গেছে, আর পাকিস্তান অনিচ্ছা সত্ত্বেও চীন শিবিরে যোগ দিয়েছে। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে কাজ করেছে।

মূলত গত কয়েক বছর ধরে ঋণভারে জর্জরিত পাকিস্তান। প্রতি বছর বেড়ে চলছে দেশটির মাথা পিছু ঋণের দায়। বর্তমানে দেশটির মাথাপিছু ঋণ পৌঁছেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার পাকিস্তানি রুপি। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটির বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। পরবর্তী ১৪ মাসে অর্থাৎ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ ট্রিলিনয়ন রুপি। মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো ঋণ পরিশোধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে দেশটির সরকারকে। গত বছরের আগস্ট মাসে সৌদি আরব পাকিস্তানকে ঋণ নেওয়া তিন বিলিয়ন ডলার ফেরতের জন্য চাপ দেয়। তা ছাড়া পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস সংযুক্ত আরব আমিরাতও পাকিস্তানি শ্রমিকদের ভিসা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যেটা পাকিস্তানের অর্থনীতির ওপর ছিল একটা বিরাট ধাক্কা।

আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে সৃষ্ট মতবিরোধের কারণ বেশ গভীর। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক হামলায় অংশ নিতে পাকিস্তানকে বাধ্য করেছিল। এরপর ২০০৬ সাল থেকে আফগানিস্তানের ব্যাপারে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তোলে মার্কিন প্রশাসন। বুশের পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই মেয়াদের শাসনকালেও নানা ইস্যুতে দুদেশের মধ্যকার মতবিরোধ অব্যাহত থাকে এবং পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় মার্কিন হামলার কারণে দুদেশের মতবিরোধ তুঙ্গে ওঠে। পাকিস্তান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে অভিযোগ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর কোনো রাখঢাক না করে সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমনসব আক্রমণাত্মক অভিযোগ তোলে যাকে পাকিস্তান তাদের জন্য চরম অবমাননাকর বলে মনে করে। ফলে ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন দ্বন্দ্ব নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক ও অর্থ সহায়তার বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা এবং আফগানিস্তানের ব্যাপারে মার্কিন নীতি মেনে চলতে পাকিস্তানকে বাধ্য করার চেষ্টা করে। এখানে উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য পেয়ে আসছিল এবং ১৫ বছরে পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে, তবে তালেবান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সময়ে সেসব সাহায্য স্থগিত করে দেয়।

বাস্তবতা হচ্ছে, আফগানিস্তানে চলমান দীর্ঘকালীন যুদ্ধের চোরাবালিতে আমেরিকা আটকা পড়ে গিয়েছিল। আমেরিকার জন্য এ থেকে বেরিয়ে আসা কিংবা আফগান যুদ্ধে সফলতার জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতার কোনো বিকল্প ছিল না। বিষয়টি ন্যাটোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদেরও ভাবমূর্তি ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে পাকিস্তান ভালো করেই জানে, আফগান যুদ্ধ অত্যন্ত জটিল এবং এর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বের হওয়া বেশ কঠিন। যদিও তালেবানদের ওপর পাকিস্তানের যথেষ্ট প্রভাব ছিল কিন্তু পাকিস্তান বরাবরই অস্বীকার করে আসছিল। এ অবস্থায় আমেরিকা যদি কখনো চাপ সৃষ্টি করে তাহলে পাকিস্তানও তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পাল্টা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। যাই হোক, পাকিস্তান একসময় বুঝতে পারে আমেরিকার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ইসলামাবাদের জন্য অনুশোচনা ও অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ এ অঞ্চলে পাকিস্তান যত দিন আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করবে কেবল তত দিন ইসলামাবাদকে গুরুত্ব দেবে ওয়াশিংটন।

এরপর থেকে কাগজে-কলমে পাকিস্তান আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ঠিকই কিন্তু আফগান সংকট নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রতি যেভাবে অপমান করেছেন, কূটনৈতিকভাবে তার নজির খুব একটা চোখে পড়ে না। তিনি খোলাখুলিভাবে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তালেবানকে নিজেদের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তখন আফগানিস্তানের তালেবান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের চেয়ে ভারতকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছিল এবং ট্রাম্প ভেবেছিলেন, ভারতের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য পাকিস্তানের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করবে। তবে আমেরিকা, আফগান সরকার এবং পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, পাকিস্তান তাদের কৌশলগত স্বার্থে তালেবানকে গোপনে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। এভাবেই একসময়ের পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্রের সঙ্গে আমেরিকার দিন দিন দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল এবং কৌশলগত কারণেই আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছিল। পাকিস্তান সরকার আমেরিকার নতুন এই হুমকির ব্যাপারে খুব বেশি উচ্চবাচ্য করেনি। পাকিস্তান তালেবানকে কখনোই নিজেদের মাটিতে আশ্রয় দেয় না বললেও তখন থেকেই গোপনে তালেবানকে জোরেসোরে সাহায্য সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে।

চীন অনেক দিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, তারা পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। চীন বলেছে, তার ‘চিরকালীন বন্ধু’ পৃথিবীর সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে যে ভূমিকা পালন করেছে, পৃথিবীর তা স্বীকার করা উচিত। পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দেয় বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেদিন দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছিল, ঠিক তার পরদিনই চীন এ কথা বলেছিল। চীন পাকিস্তানকে প্রশংসার বানে ভাসিয়ে বলেছিল, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে ইসলামাবাদ ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। চীন আরো বলেছিল, পাকিস্তান যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় যোগ দিয়েছে, তাতে তারা খুশি, যার ভিত্তি হচ্ছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যার মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা পালন করছে। দেশটি বলেছিল, ‘চীন ও পাকিস্তান সব সময়ের বন্ধু। উভয় পক্ষের সুবিধার্থে চীন এই সহযোগিতাকে গভীরতর করতে প্রস্তুত।’ চীন এমন কথা বলবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। চীন পাকিস্তানে পাঁচ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) নির্মাণ করছে। এটি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে গেছে বলে ভারত আপত্তি তুলেছিল। তখন চীন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে চীন বলেছিল, তারা এই অর্থনৈতিক করিডর আফগানিস্তান পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায়, যদিও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। জঙ্গি গ্রুপগুলোকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন পাকিস্তানকে ৩০ কোটি ডলার অর্থ সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে। পাকিস্তান থেকে আরো ৫০ কোটি ডলারের একটি সাহায্য ইতিপূর্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। দেশটির ঋণ শোধ করার সামর্থ্য নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল। ঋণে ডুবে থাকা পাকিস্তান নিয়মিত ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে পারছিল না। পাকিস্তান ঋণের জন্য আইএমএফের কাছেও বহুবার ধরনা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানকে আর্থিকভাবে বেশ কোণঠাসা করে রাখছিল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর কাছ থেকে সহজ শর্তে যে ঋণ গ্রহণ করতে চাইছিল, তাতেও নানা রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিল। চীনের বিপুল অঙ্কের দেনা শোধ করতে আইএমএফের দ্বারস্থ হওয়ার অভিযোগে আইএমএফের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিপক্ষে আমেরিকা কলকাঠি নাড়ছিল বলে পাকিস্তানের অভিযোগ। আইএমএফ থেকে নেওয়া কোনো অর্থ দিয়ে পাকিস্তান যাতে চীনের ধার পরিশোধ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনিটরিংও করছিল।

আমেরিকা দীর্ঘদিন পাকিস্তানে কোনো বিনিয়োগ করেনি অথচ তাদের বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, প্রযুক্তিগত দক্ষতার আদান-প্রদান প্রয়োজন ছিল। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে কোনোটিই দিচ্ছিল না। কেবল তাদের ভূখ- ব্যবহার করে পাকিস্তানের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছিল কিন্তু চীন সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে। ফলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যেখানে পারছিল না, চীন সেখানে এগিয়ে যাচ্ছিল। এ ক্ষেত্রে চীন পাকিস্তানের অভাব পূরণ করছে। তারা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করেছে। সেখানে চীন বিনিয়োগও করছে। সেখানে বিনিয়োগে কারো জন্যই বাধা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র কেবল জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অজুহাতে সামরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ থেকে পিছিয়ে ছিল। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে চীন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পথ খুঁজছিল। তারা সেখান থেকে চলে গেলেও পাকিস্তানের কাছে আফগানিস্তানের অনিবার্য প্রাসঙ্গিকতা ছিল। আফগানিস্তানের অবস্থান ভূকৌশলগত কারণেই পাকিস্তানের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২০ কোটি এবং তারা ওআইসির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাদের ভাষা, সংস্কৃতির মিল রয়েছে। রয়েছে বিশাল সীমান্ত বাণিজ্য। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দেশ। পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের জন্য যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনিভাবে আফগানিস্তানকেও পাকিস্তানের জন্য প্রয়োজন। তাই আফগানিস্তানের সঙ্গে যুক্ত থাকাটাই পাকিস্তানের জন্য অবশ্যম্ভাবী ছিল। পাকিস্তান তালেবানকে গোপনে সাহায্য সহযোগিতা করে আমেরিকার বিরুদ্ধে সেই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে।

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার সঙ্গে আফগানিস্তানের সাদরান অঞ্চলের সংস্কৃতি, ভাষার ব্যাপক মিল রয়েছে। সেখানকার পশতুভাষীরাই জন্মগতভাবে তালেবানের প্রধান শক্তি। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবানরা। এ সময় যে তিনটি রাষ্ট্র তালেবানকে স্বীকৃতি দিয়েছিল তার একটি পাকিস্তান। তবে ৯/১১-এর পর সেই দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে শুরু করে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের দৃশ্যমান সেই নিবিড় যোগাযোগটি না থাকলেও পাকিস্তান ঠিকই ভেতরে ভেতরে তালেবানকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, তালেবান কাবুল দখলের পর উচ্ছাস লুকাতে পারেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি একে তুলনা করেছেন দাসত্বের শেকল ভাঙার সঙ্গে। ভারতের সঙ্গে তালেবান পূর্ববর্তী আফগান সরকারের সুসম্পর্ক হয়তো পাক প্রধানমন্ত্রীর এমন উচ্ছ্বাসের একটি কারণ হতে পারে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রম বিকাশমান সম্পর্কে মোটেই খুশি ছিল না পাকিস্তান। আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির পাকিস্তানের সঙ্গে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র মতো করে সম্পর্ক রাখাও ঠিকভাবে নিতে পারছিল না ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থাও তাদের মাথাব্যথার একটি কারণ। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে নানাভাবে প্রলম্বিত ও কোণঠাসা করেছিল আমেরিকা। তখন পাকিস্তান বাধ্য হয়েই চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করে এবং তালেবানদের মাধ্যমে আমেরিকার বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়তে শুরু করে। মূলত তালেবানদের উত্থান আমেরিকার সমরনীতির জন্য পাকিস্তানের চপেটাঘাত ও কূটনৈতিক পরাজয়। ৯/১১-এর দুই দশক পূর্তিতে আমেরিকার জন্য নিশ্চয়ই এটা চরম লজ্জার এবং গ্লানির।

লেখক : ব্যাংকার ও কলামিস্ট

[email protected]

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close