প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৪ জুন, ২০২১

দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ‘ডেল্টা প্লাস’ ধরন

ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনার ডেল্টা ধরন আবারও রূপ বদলেছে। ডেল্টা প্লাস নামের নতুন এই ধরনটি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বিশ্বজুড়ে। এরই মধ্যে ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ অন্তত ৯টি দেশে ডেল্টা প্লাস ছড়ানোর খবর মিলেছে। অতি সংক্রামক এই ধরনটি করোনা মহামারির রাশ টানার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে বলে আশঙ্কা জনস্বাস্থ্যবিদদের।

করোনার ডেল্টা ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়েছিল গত বছরের শেষের দিকে। এর কারণে চলতি বছরে এসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়েছে ভারত। দেশটি থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে ডেল্টা ধরন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এটি। কেননা করোনার এই ধরন দ্রুত ছড়াতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরই মধ্যে করোনার ডেল্টা ধরনকে ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

------
ডেল্টা ধরন নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই এর রূপ বদলের খবর মিলেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে গতকাল বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত এপ্রিলে দেশটিতে করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন প্রথম শনাক্ত হয়। আর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশ ভারতের এই তিন রাজ্যের ছয়টি জেলায় ২২ জনের শরীরে করোনার এই ধরন শনাক্ত হয়েছে।

শুধু ভারত নয়, দেশটির সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন। বিবিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভারত ছাড়াও এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আরো ৯টি দেশে ডেল্টা প্লাস ধরন ছড়িয়ে পড়ার খবর মিলেছে। দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, জাপান, পোল্যান্ড, নেপাল, রাশিয়া ও চীন।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন নিয়ে খুব বেশি তথ্য নেই। এমনকি অন্য ধরনগুলোর তুলনায় করোনার নতুন এই ধরন কত দ্রুত ছড়ায়, সে ব্যাপারেও স্পষ্ট করে জানে না কেউ। ফলে করোনার এই ধরন নিয়ে উদ্বেগ রয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার এই ধরন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে রয়্যাল সোসাইটি অব লন্ডনের ফেলো চিকিৎসক গগনদ্বীপ কাং বলেন, ‘করোনার ডেল্টা প্লাস ধরনকে প্রকৃতপক্ষে উদ্বেগজনক বলতে আমাদের আরো তথ্য উপাত্ত প্রয়োজন।’

তবে এর কারণে বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রোগতত্ত্ববিদ নিল ফার্গুসন মনে করেন যুক্তরাজ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কারণ হতে পারে করোনার এই ধরন।

ভারতেও শঙ্কা বাড়ছে : ভারতে করোনাভাইরাসের ‘ডেল্টা’ ধরন নিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যেই নতুন আরেকটি ধরন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এরই মধ্যে তিনটি রাজ্যে প্রায় দুই ডজন রোগীর শরীরে নতুন এই ধরনটি শনাক্ত হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ডেল্টা প্লাস’। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ জানিয়েছেন, শুধু মহারাষ্ট্রেই ভাইরাসটির এই নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে ২১ জনের।

‘ডেল্টা প্লাস’ ধরনটির সংক্রমণ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলো পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ঘোষণার পর গত সোমবার ভারতে রেকর্ড ৮৬ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হলেও এই গতি ধরে রাখা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য ও নীতি বিশেষজ্ঞ চন্দ্রকান্ত লাহেড়িয়ার মতে, দীর্ঘমেয়াদে এভাবে চালানো যাবে না। তিনি বলেন, এক দিনেই অনেক রাজ্যই তাদের মজুদ টিকা শেষ করে ফেলেছে যা সামনের দিনগুলোতে টিকাদান কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করবে। আগামী কয়েক মাসের জন্য টিকা সরবরাহের লক্ষ্য বর্তমানে ঠিক করা হয়েছে, তাতে করে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়া সম্ভব।

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে টিকা পাওয়ার যোগ্য ৯৫ কোটি মানুষের মাত্র ৫.৫ শতাংশকে এর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

বিশেষ করে ভারতের দুই তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস যেখানে সেই গ্রামাঞ্চলে তরুণদের যখন টিকার আওতায় আনা হবে তখনই এই কার্যক্রমের গতি ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করেন দিল্লির মহামারি বিশেষজ্ঞ রাজীব দাশগুপ্ত।

বিপদে আছে রাজধানীও। সেখানকার কর্তৃপক্ষের তথ্য, দিল্লির ৮০ লাখের বেশি বাসিন্দা এখনও টিকার প্রথম ডোজই পায়নি। টিকাদান বর্তমান গতিতে চললে দিল্লির সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকার আওতায় আনতে এক বছরের বেশি সময় লাগবে।

বর্তমানে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত হচ্ছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। এছাড়া ভারত বায়োটেক বানাচ্ছে ‘কোভ্যাক্সিন’। গত সপ্তাহে সেরাম ঘোষণা দিয়েছে, জুলাই থেকে তারা দৈনিক কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করবে। আর ভারত বায়োটকেরে লক্ষ্য মাসে ২ কোটি ৩০ লাখ ডোজ টিকা উৎপাদনের।

এর বাইরে শিগগিরই রাশিয়ার তৈরি ‘স্পুৎনিক ভি’ টিকার প্রয়োগ শুরু করার আশা করছে ভারত। এছাড়া এ বছরের মধ্যে ফাইজারসহ আরো কিছু কোম্পানির টিকা আমদানির আশাও করা হচ্ছে। গত তিন মাসের মধ্যে ভারতে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকলেও নতুন ধরনগুলোর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় টিকার আওতা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close