নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৮ নভেম্বর, ২০২১

সংবাদ সম্মেলনে মঈন

তেল চুরির লোভে গাড়ি চালায় বাইরের লোক

হারুন ২ দিনের রিমান্ডে

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে যাদের নামে বরাদ্দ আছে, তারা কেউ গাড়ি চালান না, চালান বাইরের লোক। মূলত তেল চুরির টাকায় চলতেন ময়লাবাহী গাড়ির চালকরা।

সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়িচাপায় দুজন নিহতের পর এ তথ্য মিলেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং কথিত ওয়ার্কশপের সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গেই গ্রেপ্তারদের ঘনিষ্ঠতা হয়। এ সুবাদে সিটি করপোরেশনের চালকদের সঙ্গেও তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। সখ্যের কারণে তারা ময়লাবাহী গাড়ি চালানোর সুযোগ পায়। এজন্য তাদের কোনো বেতন ছিল না। প্রতিদিন গাড়ির জন্য বরাদ্দ তেল থেকে ১৭ থেকে ২০ লিটার বিক্রি করাই ছিল তাদের আয়।

এদিকে, নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে গাড়িচাপা দিয়ে মৃত্যুর মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী হারুন মিয়াকে দুই দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম রিমান্ডের এই আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন ওই আদালতে পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই মো. মোতালেব হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই আনিছুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনা আইনে করা মামলায় হারুনকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেন।

এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হারুন মিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

গত বুধবার রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে চালক রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চালকের আসনে ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরে শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ওই গাড়ির প্রকৃত চালক হারুনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৩)।

শিক্ষার্থী নাঈমের মৃত্যুর একদিন পর (বৃহস্পতিবার) পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির বিপরীত পাশে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় সংবাদকর্মী আহসান কবীর খাঁন (৪৬) নিহত হন। এ ঘটনায় শুক্রবার চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে চালক হানিফ ওরফে ফটিককে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার দিন হানিফ পান্থপথ থেকে গাবতলীতে দুইবার ময়লা নিয়ে ডাম্পিং করে। তৃতীয়বার যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে আরোহী আহসান কবীর নিহত হন। ঘটনার পর ভয় পেয়ে হানিফ ও তার সহকারী কামরুল (১০) পালিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুরে নানার বাড়িতে আত্মগোপনে যায় হানিফ। র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-২ চাঁদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হানিফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানায়, তিনি গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্কশপে সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ডিএনসিসির বেতনভুক্ত বা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীও নন। প্রতিদিন মেকারের সহকারী হিসেবে কাজ করলে কেউ যা বকশিশ দিত, সেটাই তার একমাত্র আয় ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তাররা জানে না গাড়িগুলো কার নামে বরাদ্দ। তবে হানিফের কাছ থেকে আমরা দু-একজনের নাম পেয়েছি। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারা হয়তো এ বিষয়ে বলতে পারবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close