বাগেরহাট প্রতিনিধি

  ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

বাগেরহাটে ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন

বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সসেবা গরিবরা উপকৃত

গরিব ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ অ্যাম্বুলেন্সসেবা চালু করা হয়েছে। এলজিএসপির অর্থায়নে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্যাটারিচালিত ইজি বাইককে অ্যাম্বুলেন্সে পরিবর্তন করে এ বাহনটি তৈরি করা হয়েছে। ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের ৩৩ হাজার ১০০ মানুষ বিনামূল্যে এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাবেন। ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে বিনামূল্যে এ অ্যাম্বুলেন্স সেবা এরই মধ্যে বাগেরহাট জেলাজুড়ে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে। ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের জনসাধারনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের স্বল্প আয়। এ স্বল্প আয়ের মধ্যেও আমার গত ১ জানুয়ারি থেকে ইউনিয়নের অসহায়-দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে পরিবেশ বান্ধব এ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছি। জরুরি মুহূর্তে ইউনিয়নের কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। সেখানে ইউনিয়নের অন্তঃসত্ত্বাদের বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। টাকার অভাবে অনেকে হাসপাতালে যেতে পারেন না। সেসব রোগী বিনামূল্যে এ অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাবেন। এ ছাড়া জরুরি মুহূর্তে দিনেরাতে যেকোনো সময় ফোন পেলেই ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় এ অ্যাম্বুলেন্স হাজির হয়ে যাবে।

অ্যাম্বুলেন্সের চালক চঞ্চল শেখ বলেন, ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আমরা সব সময় নিয়োজিত আছি। ফোন পেলেই আমরা ছুটে যাচ্ছি রোগীর বাড়িতে। পৌঁছে দিচ্ছি বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ যেকোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালে। মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য জরুরি মুহূর্তে ষাটগম্বুজ ইউনিয়নবাসীর তিনি ‘০১৭৮৭৮৮১০৬৮’ নাম্বারে ফোন করার অনুরোধ জানান।

------
এদিকে, ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বিনামূল্যের এ অ্যাম্বুলেন্স সেবায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ইউনিয়নে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু হওয়াতে সাধুবাদ জানিয়ে ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের পশ্চিমডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী শেখ বলেন, পশ্চিডাঙ্গা গ্রামে অনেক দরিদ্র পরিবার বসবাস করে। টাকার অভাবে অনেক সময় জরুরি মুহূর্তে আমরা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে পারি না। বিনামূল্যের এই অ্যাম্বুলেন্স আমাদের সে সমস্যা সমাধান করে দিয়েছে।

পাটরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফতেমা বেগম বলেন, ‘আমি তো গরিব মানুষ। হাট-বাজারে সবজি বিক্রি করে আমার সংসার চলে। অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য আমার নেই। সেখানে দরকারের সময় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ইউনিয়ন থেকে এই অ্যাম্বুলেন্স হওয়ার কারণে আমাদের মতো গরিবের অনেক উপকার হয়েছে।’

 

 

"

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close