নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৩০ নভেম্বর, ২০২০

মৃত্যু আরো ২৯ জনের, শনাক্ত ১৭৮৮

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ মারা যাওয়া রায়হান আহমদের ভিসেরা প্রতিবেদনে বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রায়হানের প্রথম ময়নাতদন্তের ভিসেরা প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম থেকে আমাদের কাছে এসেছে। প্রতিবেদনে বিষক্রিয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছে।

------
এর আগে দুই দফায় ময়নাতদন্ত শেষে তার শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। সেই প্রতিবেদনও পিবিআইয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। এরপর অধিকতর তদন্তের জন্য রায়হানের ভিসেরা পরীক্ষার আলামত সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে সিআইডির কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২৬ নভেম্বর সেটি সিলেটে আসে।

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গত ১১ অক্টোবর সকালে মারা যান নগরীর আখালিয়া বাসিন্দা রায়হান আহমদ (৩৪)। পুলিশের পক্ষ থেকে গণপিটুুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হলেও পরিবারের দাবি ছিল নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর রাতে রায়হানের স্ত্রী তামান্না আক্তার হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

হত্যার অভিযোগে স্ত্রীর মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এই ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেনসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান বন্দরবাজার থানার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আকবর হোসেন ভূঁইয়া। গত ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। আকবর পালানোর পর থেকেই তাকে পালাতে কারা সহযোগিতা করেছেন তাদের চিহ্নিত করার দাবি ওঠে। ধরা পরার পর আকবরও জনতার কাছে বলেছেন, দুই সিনিয়র কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি পালিয়ে যান। তাকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে এরই মধ্যে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর আকবরকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। রিমান্ড শেষে ১৭ নভেম্বর আকবরকে আদালতে হাজির করা হলেও তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেননি। এর আগে এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য এএসআই আশেক এলাহি, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং হারুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড নেয় পিবিআই। তবে রিমান্ড শেষে তারাও আদালতে স্বীকার করে জবানবন্দি দেননি।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়