নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ভেবেছিলাম, আমাকে ছুটি দেবেন’
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতেই আ.লীগের হাল

টানা নবমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালনের রেকর্ডও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
৩৮ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দলটির শীর্ষ পদে আছেন তিনি। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলের ত্রয়োদশ সম্মেলন থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে। এর আগে বেশ কয়েকবার দলীয় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতির পদ ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে ‘বিকল্প নেই’ বলে শনিবার ২১তম সম্মেলনেও তাকেই সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে দলের হাল ধরার কথা স্মরণ করে কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করা, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা, বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে একটা মর্যাদা এনে দেওয়া— এটাই ছিল জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি। আমার একটাই লক্ষ্য, তার সেই আকাঙ্ক্ষাটা পূরণ করা। স্বপ্নটা পূরণ করা। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেন অন্তত আমার বাবা-মায়ের আত্মাটা শান্তি পায়। আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের যে স্বাধীনতা, সেটা যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি চাচ্ছিলাম, আমাকে একটু ছুটি দেবেন। ভাবতে হবে, আমার বয়স হয়ে গেছে। আমার বয়স এখন ৭৩। এবারও আমাকে দায়িত্ব দিয়ে দিলেন আপনারা।’
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সালে মা-বাবা-ভাই-বোন সব হারিয়েছি। আওয়ামী লীগকে আমার পরিবার হিসেবে নিয়েছি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই ছিল আমার চলার শক্তি। আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে পরিবার হারানোর পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই আমার শক্তি। আমার ৭৩ বছর বয়স হয়ে গেছে। আপনাদের নতুন করে ভাবতে হবে। আগামীতে নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। সভাপতি পদে যেহেতু আর কোনো নামের প্রস্তাব আসেনি। তাই আমাকেই আপনারা নির্বাচিত করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১৯৮৭ সালের জানুয়ারিতে চতুর্দশ, ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বরে পঞ্চদশ, ১৯৯৭ সালের মে মাসে ষোড়শ, ২০০২ সালের ডিসেম্বরে সপ্তদশ, ২০০৯ সালের জুলাইয়ে অষ্টাদশ, ২০১২ সালের ডিসেম্বর ঊনবিংশ এবং ২০১৬ সালে বিংশতম সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন হাসিনা।
আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদে না থাকলেও আওয়ামী লীগে ছিলাম, আছি, থাকব। আমি ভেবেছিলাম, আমাকে আপনারা ছুটি দেবেন।’
পিডিএসও/তাজ









































