ধর্ষণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৩৮ | আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৪

সম্পাদকীয়

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুলকে বাঁকা করতে হয়। আর এটাই বিজ্ঞান। দেশ থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকার নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে এবং এখনো তা বলবৎ আছে। কিন্তু যারা এই অনৈতিক কাজ করছে, তারা কোনো কিছুতেই নৈতিকতার পথে ফিরছে না। আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে অনৈতিকতার পথে এগিয়েই চলেছে এবং এই অনৈতিক আচরণ যে গতিতে বাড়ছে, সামাজিকভাবে তা জনমনে এক গভীর ক্ষতের জন্ম দিচ্ছে।

আমরা সবাই জানি, সামাজিক অবক্ষয়ই এই অনৈতিকতার জন্মদাতা। একদিনে এ অবক্ষয়ের জন্ম হয়নি। ধীরে ধীরে তা বিকশিত হয়ে আজ মহা-আতঙ্কের রূপ ধারণ করেছে। সমাজ থেকে এর মূলোৎপাটন করা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়। কে এই মূলোৎপাটনের দায়িত্ব নেবে?

সরকারের একার পক্ষে এ দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। সতেরো কোটি মানুষের দেশে নজরদারি করে এর মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। দায়িত্ব নিতে হবে প্রতিটি পরিবারকে। তবে সরকারকে আসতে হবে নেতৃত্বে। সরকারের নেতৃত্ব আর জনতার সহযোগিতা একযোগে কাজ করলেই অবক্ষয়ের মাত্রা কমবে। কমবে অনৈতিকতা। প্রয়োজন একটি সম্মিলিত আন্দোলন। আমরা সরকারের কাছে সেই নেতৃত্ব আশা করছি, যে নেতৃত্ব আঙুল বাঁকা করে ঘি তোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে আসবে। সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তারা ধর্ষণের ঘটনা রুখতে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে বলেছেন। পাশাপাশি এ ঘটনার প্রতিবাদে চার দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। সেখানে শুধু এমসি কলেজের ঘটনাই নয়, খাগড়াছড়িতে প্রতিবন্ধী আদিবাসী কিশোরীসহ সব ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ষণজনিত মামলায় শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও শাস্তি হচ্ছে খুবই কম। তাদের মতে, ১০০ জন ধর্ষকের মধ্যে শাস্তি পাচ্ছে তিনজন। ৯৭ ভাগ ধর্ষণের ঘটনায় শাস্তি না হওয়ায় দিন দিন এমন অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। এমসি কলেজে যে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, এটি অমার্জনীয় ও জঘন্য অপরাধ। নৈতিকতার অভাব ও অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ এই দুয়ের মিশ্রণে প্রতি মুহূর্তেই সমাজ কলুষিত হচ্ছে এবং যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। অপসংস্কৃতির এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও সরকারকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারলে অনৈতিকতা কমে আসতে বাধ্য। পাশাপাশি নৈতিকতা নির্মাণে বেশ কিছু কর্মকাণ্ডের উপস্থাপনা খুবই জরুরি। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা এবং সরকার উভয়কেই ভাবতে হবে এবং কর্মসূচি সচল করতে হবে। তবে অবক্ষয়ের মাত্রা এখন যেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এ ধরনের প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারকে দ্রুত বিচার এবং শাস্তির ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে। কেবল আইন করে থেমে থাকলে চলবে না। আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নকে নিশ্চিত করতে হবে। এর বাইরে আর কোনো প্রত্যাশা নেই।

পিডিএসও/হেলাল