reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: লাভের পাল্লা কার দিকে?

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন সমঝোতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিভিন্ন ধারা তুলে ধরেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে পারে। এরপর ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অবিলম্বে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও অঙ্গীকার করেছে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরান বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। চুক্তিতে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির জব্দ থাকা সম্পদ ও তহবিল ব্যবহারের সুযোগও ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

তবে পারমাণবিক ইস্যুতে উভয় পক্ষ কিছুটা সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। ইরান আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও তা সম্পূর্ণ অপসারণ, বিদেশে পাঠানো বা সংরক্ষণের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়নি।

কার লাভ বেশি?

চুক্তির ধারাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া, তেল রফতানির সুযোগ ফিরে পাওয়া এবং জব্দ সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেশটির অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ।

তবে চুক্তির স্থায়িত্ব নির্ভর করবে চূড়ান্ত সমঝোতা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর। বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন মতবিরোধ দেখা দিলে এই সমঝোতার ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে এটি ‘উইন-উইন’ চুক্তি হিসেবে উপস্থাপিত হলেও অর্থনৈতিক সুবিধার দিক থেকে ইরান এবং নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত লাভের পাল্লা কোন দিকে ভারী হবে, তা নির্ধারণ করবে চুক্তির বাস্তবায়ন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়