তহিদুল ইসলাম, জাবি প্রতিনিধি

  ৩১ মে, ২০২১

জাহাঙ্গীরনগরের গোলাপি পদ্ম

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশের অন্যতম শীর্ষ একটি বিদ্যাপীঠ। প্রাণ প্রকৃতির জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বে পৌঁছেছে। শীতের অতিথি পাখি, লেকের লাল শাপলা, শান্ত শ্যামল প্রকৃতি, দিনের আলোতে শিয়ালের আনাগোনা- এসবের কারণে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগ্রহের অন্যতম এক কেন্দ্র। তবে গত কয়েক বছর ধরে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বাড়তি উন্মাদনা যুক্ত করেছে পদ্মফুল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি ছোট ছোট জলাশয়ে পদ্মফুল ফোটে। এর একটি চৌরঙ্গী সংলগ্ন পদ্ম ফোয়ারা লেক ও অন্যটি জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনের একটি লেক। তবে এর মধ্যে দর্শনার্থীদের আগ্রহ পদ্ম ফোয়ারা লেক ঘিরেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা দর্শনার্থীরা অন্তত একবারের জন্য হলেও এখানকার পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করে যান। কেউ কেউ মুঠোফোন বা ক্যামেরায় সে দৃশ্য স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করে নিয়ে যান।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রাকৃতিক জলাধার, হাওর-বাঁওড়, খালে-বিলে ও ঝিলের পানিতে পদ্মফুল ফুটতে দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে ফুল ফোটা শুরু হয়। তবে শরতে অধিক পরিমাণে ফোটে এবং এর ব্যাপ্তি থাকে হেমন্তকাল অবধি।

উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়ায় পদ্ম ফুল বর্ষাকালে ফোটে বলে উল্লেখ থাকলেও গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটে থাকা পদ্ম শোভা বাড়াচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ম ফুটতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গীর পাশ ঘেঁষে রয়েছে চারটি লেক। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট যে জলাশয়, শুধুমাত্র সেটিতেই আছে পদ্মফুল। পদ্ম ফোয়ারা লেক নামে খ্যাত এই ছোট্ট জলাশয়ের পুরোটা জুড়ে আছে সাদা-গোলাপের মিশেলে দৃষ্টিনন্দন পদ্ম। এসব পদ্মের কোনটি ফুঁটে সৌন্দর্য বিলাচ্ছে, আবার কোনটির কলি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ফোঁটার অপেক্ষায়। লেকের একেবারে মাঝখানে রয়েছে কৃত্রিম পদ্ম ফোয়ারা। লেকজুড়ে পদ্মের এমন অপরূপ সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মনকে নাড়া দেয়। তাইতো পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করতে লেকে ঢুঁ মারতে দেখা গেল কয়েক পথচারীকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনের সেই লেকেও পদ্ম রয়েছে। যদিও আগাছার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দেয়া পদ্ম গাছের সংখ্যা নেহাত হাতেগোনা কয়েকটি।

উইকিপিডিয়া বলছে, পদ্ম ফুল রাতের বেলা ফোটে। আর দিনে রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুল সংকুচিত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আবার প্রস্ফুটিত হয়। এভাবেই কয়েকদিন ধরে সৌন্দর্য বিলিয়ে যায় পদ্ম। পদ্ম ফুলের রং মূলত লাল, সাদা ও গোলাপীর মিশ্রণ যুক্ত। তবে লাল, সাদা ও নীল রংয়েরও হয়ে থাকে। এটি একটি ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ ফুল। সাধারণত গাছের কন্দ থেকেই বংশবৃদ্ধি হয় এদের।

শনিবার সকালে পদ্ম ফোয়ারা লেকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন নারী। যাওয়ার সময় লেকে পাড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলেন পদ্মফুলের সৌন্দর্য। এদের একজন রোকেয়া বলছিলেন, আগে আমাদের গ্রামের দিকে বিলে প্রচুর পদ্মফুল দেখা যেত। এখন আর নেই। এখানে দেখতে পেয়ে ভালোই লাগে। কী সুন্দর ফুল! ফোনে কয়েকটা ছবিও তোলা আছে।

পিডিএসও/ইউসুফ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জাবি,প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,ভ্রমণপিপাসু,জলাশয়,চৌরঙ্গী
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়