বন্দির স্ত্রীকেই ভাগিয়ে নিলেন কারারক্ষী

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০৩

অনলাইন ডেস্ক

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে এক বন্দির স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ বছর ধরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত তিনি। মামুন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ এলাকার বাসিন্দা। বিবাহিত ওই কারারক্ষী কারাগারের ব্যারাকে একাই থাকেন।

ভুক্তভোগী বন্দি মোহাম্মদ আকাশ রাজশাহী মহানগরীর ষষ্ঠিতলা এলাকার বাসিন্দা। তার আট বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রীর নাম পারভীন আক্তার (২৮)। পারভীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকার রহমতপাড়া মহল্লার নাসির উদ্দিনের মেয়ে। ১৪ বছর আগে রাজশাহী নগরীর বাসিন্দা আকাশের সঙ্গে পরিবারের সম্মতিতে পারভীনের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে।

পারভীন আক্তারের বড় বোন শিরিন আক্তার জানান, আকাশ জেলে যাওয়ার পর ওই কারারক্ষীর সঙ্গে পারভীনের মোবাইলে যোগাযোগ হয়। এরপর তারা পরকীয়ায় জড়িয়ে যান। গত কোরবানির ঈদের তিন দিন আগে ওই কারারক্ষীর সঙ্গে পারভীন নিরুদ্দেশ হন।

শিরিন আক্তার বলেন, ‘আমরা ধরেই নিয়েছিলাম পারভীন স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে বাড়ি ছেড়েছে। কিন্তু পরে ফোন করে আমাদের জানিয়েছে ওই কারারক্ষী তাকে জিম্মি করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছেন। তাকে বিয়ে না করেই স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করছেন।’

এই তথ্য পেয়ে তারা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু উদ্ধার করতে পারেননি। এ নিয়ে তারা মামলা দায়েরের কথা ভাবছেন। একই ভাষ্য পারভীনের স্বামী আকাশেরও। তিনি জানান, তিনি ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন। সেখান থেকে ফেরার পথে নগর ডিবি পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন মাদক কারবারি হিসেবে তুলে নিয়ে যায়। ওই সময় তার কাছে টাকা দাবি করে পুলিশের ওই দলটি।‘

কিন্তু তিনি সেই দাবি পূরণ করতে পারেননি। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়। কারাবন্দি থাকাকালীন কারারক্ষী মামুন হোসেনের সঙ্গে তার সাক্ষাত হয়। তিনি স্ত্রীর মোবাইল নম্বর দিয়ে ওই কারারক্ষীকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবর দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এরপর পারভীনের সঙ্গে ওই কারারক্ষী পরকীয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের গোপন ভিডিও ধারণ করে তাকে জিম্মি করেন কারারক্ষী। তার স্বামীর মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে জানিয়ে তাকে বাড়ি থেকে ভাগিয়ে নিয়ে যান। পরে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন ওই কারারক্ষী। ভুক্তভোগী আকাশ আরও বলেন, ‘তিনি নগরীর নিউ মার্কেটের সামনে ফুটপাতে দোকান করেন। সেই দোকানে মাদক রেখে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তিনি দোকান বন্ধ রেখে আত্মগোপন করেছেন। এই ঘটনার প্রতিকার ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন ভুক্তভোগী আকাশ।’

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কারারক্ষী মামুন হোসেন। তিনি দাবি করেন, ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই। তিনি বিবাহিত। তার সংসার আছে। তিনি এমনটি করতেই পারেন না। ওই নারীকে স্বামীর কাছ থেকে ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

কারারক্ষী মামুনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন ও জেলার মাসুদুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। 

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ডেপুটি জেলাররা একেকজন একেক দায়িত্বে রয়েছেন। আমার দায়িত্ব হচ্ছে আসামি দেখাশোনা অর্থাৎ আসামি কে ছাড়া পাবে, কে পাবে না এই বিষয়গুলো। আর আপনি যে অভিযোগের কথা বললেন, আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে স্যারেরা এই বিষয়ে হয়তো বলতে পারবেন।’