রায়হান সিকদার, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
মাছ চাষে তিন বন্ধুর সাফল্য
স্বল্প পুঁজি থেকে কোটি টাকার ব্যবসা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর পদুয়া গ্রামের তিন বন্ধুর সততা ও পরিশ্রম মাছ চাষে অর্জন করেছেন সাফল্য। আমানুল হক প্রকাশ আমান ও তার দুই বন্ধু নাসির ও জাহেদ এ মাছ চাষে লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন কোটি টাকার ব্যবসা করছেন। প্রথমে তারা শখের বসে ব্যবসা শুরু করলে তারা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।
জানা গেছে, আমান পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের একজন জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য চাষি। তিনজনই চাকরির পেছনে না ছুটে মাছ চাষ শুরু করেন। ২০০৪ সালে দুই লাখ টাকা পুঁজিসহ মঈশা পুকুর নামে একটি পুকুর লিজ নিয়ে শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার উত্তর পদুয়া গ্রামে মঈশা মুড়া গ্রামে সখের বসবর্তী হয়ে একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। পরবর্তীতে জঙ্গল পদুয়া গ্রামে ৪টিসহ তারা এখন ৫টি পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। ওইখানে রুই, কাতলা, মৃগেল, জাপানি, তেলাপিয়া, পাঙাশ, টেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে পুকুরে চাষ করে বড় করা হয়। তাদের দাবি দুই লাখ টাকা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করে কোটি টাকায় ব্যবসা দাঁড়িয়েছে । প্রতি বছর মার্চের শুরুতে পুকুরে মাছের পোনা ছেড়ে দেওয়ার পর ১০ মাস ধরে মাছগুলো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে বড় করা হয়। বছরে দুই থেকে তিনবারের মতো দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়।
মাছ চাষি পদুয়া ইউপি মেম্বার আমান জানান, তিন বন্ধু মিলে তাদের লিজকৃত পুকুরে প্রতিবছর এক হেক্টরে প্রায় ১৩ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ চাষ করে একদিকে তারা যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন, অপরদিকে এ সফলতা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এতে মাছের খামারে কেয়ারটেকাররা দেখাশুনা করে তারাও কর্মসংস্থান পাচ্ছেন। এ ব্যবসায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস সার্বিক সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরওয়ার বলেন, আমান মেম্বারসহ তিন সহপাঠী মিলে মাছ চাষ করে এখন সফলতার মুখ দেখেছেন। তাদের মতো এলাকার যুবক ও তরুণরা মাছ চাষে এগিয়ে আসলে দেশের বেকারত্ব কমে আসবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন কুমার বেপারী জানান, মাছ চাষে সফলতা অর্জন করেছে তারা। মৎস্য চাষিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তাদের পরামর্শ দিতে পারি। সরকারিভাবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
পিডিএস/আরডি









































