গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
অজানা রোগে মারা যাচ্ছে মুরগি, দুশ্চিন্তায় খামারি

অজানা এক রোগ সংক্রমণে সিরাজগঞ্জে পোলট্রি শিল্পে ধস নেমেছে। জেলার বেশ কয়েকটি ফার্মে প্রচুর মুরগি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মরা মুরগি মাটিতে পুতে রাখছেন আবার কেউ বিক্রি করে খামার খালি করে দিচ্ছেন। এতে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের।
তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুরগির ভাইরাসের বিষয়টি তাদের অজানা। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। জীবিত, মৃত ও অসুস্থ মুরগি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে এ রোগ সম্পর্কে।
সিরাজগঞ্জ পোলট্রি খামার মালিক সমিতি সূত্রে জানা য়ায়, জেলার ৮০-এর দশকের শুরুতে পোলট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটতে শুরু করে। বিভিন্ন সময় চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে এখানে গড়ে উঠে প্রায় ৫ হাজার পোলট্রি খামার। জেলায় তীব্র শীতের কারণে অজানা রোগে মুরগির মৃত্যুর কারণে ইতোমধ্যেই সিরাজগঞ্জ জেলায় অনেক খামারিই তাদের খামার বন্ধ করে করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলার অনেক শিক্ষিত কর্মহীনরা স্বল্প পুঁজি নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। কিন্তু এই অজানা রোগে সব কিছু হয়ে যায় লণ্ডভণ্ড। এখন এলাকার পোলট্রি শিল্প ধ্বংসের দোর গোড়ায়। বর্তমানে এই রোগের এর কারণে আতংকিত হয়ে পড়েছেন খামার মালিকরা। খামারিরা জানান, এই রোগের কারণে মরে যাচ্ছে খামারের মুরগি। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা।
সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের ক্ষুদ্র শিয়ালকোল গ্রামের খামারি কবির হোসেন বলেন, আমার খামারে গত কয়েক দিন আগে এ রোগ আক্রান্ত হয়। এতে বেশ কিছু মুরগি মারা যায়। এ কারণে খামারের অর্ধেক মুরগি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। কিছু মুরগি খামারে আছে। এগুলো এন্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এন্টিবায়োটিক দেয়া বাদ দিলে মুরগি মারা যায়। সঠিক টিটমেন্ট এখনো পাচ্ছি না। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু কোনো পরামর্শ কাজে লাগছে না। আমার খামারে মুরগি ছিল ৩ হাজার ৪শত। এর মধ্যে প্রতিদিন ১৫/২০টি মুরগি মারা যায়। মুরগি মারা যাওয়ার ভয়ে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এতে লোকসান গুনতে হয়েছে।
ক্ষুদ্র শিয়ালকোল গ্রামের হাফিজুল ইসলাম বলেন, তিন বছর আগে খামার তৈরি করি। খামারে ১১শ মুরগি ছিলো। ১০ মাস আগে রোগ আক্রান্ত হয়ে আমার খামারের ১১শ মুরগি মারা যায়। এতে আমার ৭ লাখ টাকা লোকসান হয়। এখন ব্যাংক ঋনের জন্য আবেদন করছি। ব্যাংক ঋন পেলে খামারে বেশি করে মুরগি তুলতে পারবো নতুবা লোকশান গুনতে হবে।
সিরাজগঞ্জ পোলট্রি খামার মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর পদকপ্রাপ্ত খামারি মাহফুজুর রহমান বলেন, শীতকালীন মুরগির রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। ভ্যাকসিন কাজ করছে না। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের কাছে এ রোগ প্রতিকারে সুব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। সুব্যবস্থা না নিলে খামার বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলার কোথাও ব্লার্ডফ্লুর প্রকোপ এখনও দেখা যায়নি। তবে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের মধ্যে মুরগি মারা যাওয়ার আতংঙ্ক বিরাজ করছে। যার জন্য অনেকেই তারাহুড়ো করে মুরগি বিক্রি করায় দাম কমেছে। অপরদিকে মুরগির খাদ্য ও বাচ্চার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই মুরগি পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যে কারণে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাংগ কুমার তালুকদার বলেন, খামারগুলোতে সবসময় মনিটরিং করা হচ্ছে। খামারিদের পরামর্শা দেয়া হচ্ছে। জীবিত, মৃত ও অসুস্থ মুরগি আমাদের প্রাণী রোগ অনুসন্ধান কেন্দ্রে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে—মুরগি কোন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কারণ শীতকালে খামারিরা মুরগি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে রাখে। থাকা ও রাখার ব্যবস্থা খারাপ হতে পারে। আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলতে পারবো—কি কারণে মুরগি মারা যাচ্ছে।









































