বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার

  ২৬ নভেম্বর, ২০২১

পর্যটন নগরী কক্সবাজার

হোটেল-মোটেল রেস্টুরেন্টে গলাকাটা বাণিজ্য

ফাইল ছবি

পুরোপুরি শুরু হয়েছে পর্যটন মৌসুম। একদিকে পর্যটন মৌসুম অন্যদিকে করোনা থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ভ্রমণে আসছেন হাজার হাজার পর্যটক। দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি কিছু কিছু বিদেশি পর্যটকেরও দেখা মিলছে সমুদ্র সৈকতসহ শহরের দর্শনীয় পর্যটন স্পটগুলোতে। এদিকে পর্যটন মৌসুমে বিপুল পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে গলাকাটা বাণিজ্যে শুরু করেছে পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ করে পর্যটন শহর কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্টে বেশি চলছে এই গলাকাটা বাণিজ্য। এতে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা। শুধু পর্যটক নয়, মুনাফালোভী এসব ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রেহাই মিলছে না স্থানীয় ভ্রমণপিপাসুদেরও। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এখানকার পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে রেষ্টুরেন্টে গলাকাটা বাণিজ্যে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেককে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে আসা এক সংবাদকর্মী নিজের ফেসবুক ওয়ালে ক্ষোভের সঙ্গে লিখেছেন, একটি রিসোর্টে উঠলাম। এটি কক্সবাজারের কলাতলী থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে। কাপল রুম সাড়ে পাঁচ হাজার এক রাত। মনে করেছিলাম, অন্তত থ্রি স্টার মানের হবে, কিন্তু এসে দেখি দুজনের থাকাই কষ্টের। মাগরিবের পর মশার যন্ত্রণাই অতিষ্ঠ। দুপুরে এক প্লেট আলু ভর্তার দাম রেখেছে ৩০০ টাকা। দুই পিস কোরাল মাছের দাম রেখেছে ৭০০ টাকার বেশি। খেয়ে বমি করতে করতে কাহিল। কতদিন আগের আল্লাহই জানে।

কক্সবাজার ভ্রমণে আসা নারায়ণগঞ্জের মাসুদ আলম জানান, শুধু গলাকাটা বললেই কম হবে, রীতিমতো অবাক হয়েছি লাবণী পয়েন্টের লাগোয়া একটি রেস্টুরেন্টে এক বাটি মুগ ডালের দাম রাখা হয়েছে সাড়ে ৩০০ টাকা। অথচ এ মানের অন্য রেস্টুরেন্টে এক বাটি মুগ ডালের দাম নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা। শুধু ডাল নয় এ রেস্টুরেন্টে সবকিছুরই বাড়তি দাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোন ও বিচ এলাকা নয়, ইনানীসহ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন স্থানে যে চার শতাধিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে এর মধ্যে বেশির ভাগ রেস্টুরেন্টে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য। এতে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকরা।

বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, আমরা সমিতির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে বার বার তাগাদা দেই, কিন্তু কার কথা কে শুনে। বিশেষ করে সৈকতের আশপাশে যেখানে পর্যটকের ভিড় বেশি থাকে এসব এলাকার রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আসছে বেশি- যোগ করেন তিনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়বে মত দেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আমরাও প্রায়ই শুনি কিছু কিছু রেস্তোরাঁয় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। এতে ভ্রমণে আসা পর্য়টকদের বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। এটি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের জন্য সুখকর বিষয় নয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, এ ধরনের কিছু কিছু অভিযোগ আমাদের কাছে প্রায়ই আসে। রেস্টুরেন্টে বাড়তি দাম নেওয়াসহ যে কোনোভাবে কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হলে তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের খবর এলেই আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সেসব অসাধু ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পর্যটন নগরী,কক্সবাজার,হোটেল-মোটেল,গলাকাটা বাণিজ্য
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close