সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

  ২০ জুন, ২০২১

বিয়ের প্রলোভনে হরিজন সম্প্রদায়ের মেয়েকে ধর্ষণ

প্রতীকী ছবি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হরিজন সম্প্রদায়ের এক মেয়েকে(১৬) টানা দেড় মাস আটকে রেখে ধর্ষণ ও তাকে মারপিট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে চারজনকে অভিযুক্ত করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ওই চার ব্যক্তি হলেন, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের পশ্চিম রামজীবন গ্রামের মৃত ঠ্যাংভাঙ্গা জামালের ছেলে আব্দুল মোত্তালেব (৩৬), মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে হায়দার মেম্বার (৫০), তালুক বাজিত গ্রামের ইসি আকন্দের ছেলে আব্দুল মতিন (৫২) ও পশ্চিম রামজীবন গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৪৫)।

মামলা ও ঘটনাস্থল সূত্রে জানা গেছে, মামলার আব্দুল মোত্তালেব ১৬ বছর বয়সের ওই মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় এবং শেষে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই সুবাদে গত ১২ এপ্রিল মোবাইল ফোনে ধনিয়ারকুড়া বাজারের পাশে তাকে ডেকে নেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে আসামি আব্দুল মোত্তালেব তার বাড়িতে এনে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন।

গত ১৭ মে মোত্তালেব ওই মেয়েটিকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানেও বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে তাকে ধর্ষণ করেন। টানা দেড় মাস ধর্ষণের পর গত ১৩ জুন আব্দুল মোত্তালেব ঢাকা থেকে ফিরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর বাজারে নির্যাতিতা মেয়েটিকে রেখে কৌশলে পালিয়ে যান।

নিরুপায় হয়ে নির্যাতিতা ধনিয়ারকুড়া বাজারে এসে তার মায়ের সহযোগিতায় স্থানীয় এক খলিফার বাড়িতে উঠেন। কিন্তু লোকজন জানতে পেরে ওই বাড়িতে থাকতে না দেয়ায় পরদিন ১৪ মে হায়দার মেম্বারের বাড়িতে রাখা হয়। ওইরাতে হায়দার মেম্বার নিজেই আশ্রিত নির্যাতিতা মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে ধনিয়ারকুড়া বাজারের নাইটগার্ড আব্দুল মতিনের কাছে সাহায্য চাইলে মোফাজ্জলের বাড়িতে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার সময় নাইটগার্ড আব্দুল মতিনও ওই নির্যাতিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

এরপর মোফাজ্জলের বাড়িতে আশ্রয় দেয়া হলে পরের রাতে মোফাজ্জলও নির্যাতিতা ওই মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ভোর রাতে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আবারও ধনিয়ারকুড়া বাজারে আসে মেয়েটি। পরে তার মা এলাকায় বিচার চাইলে শালিস বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এরপর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে শুক্রবার তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় পুলিশ এবং রাতেই নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।

পিডিএসও/এসএম শামীম

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সুন্দরগঞ্জ,গাইবান্ধা
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close