নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৮ ঘণ্টা আগে

শেয়ারবাজারে রেকর্ড লেনদেনে বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব বরণ

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্বের আগমনে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিএসইসিতে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের পর প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনে উল্লম্ফন হওয়র পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। গতকাল

রবিবার (৭ জুন) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে রেকর্ড লেনদেন হয়েছে। বাজারটিতে ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর সবচেয়ে বড় লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে নতুন ব্যক্তিদের আগমনকে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। যার প্রতিফল নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রথম কার্যদিবসেই দেখা গেল। প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া নতুন নেতৃত্বের প্রতি প্রত্যাশারই প্রতিফলন। তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরে হয়েছে, তা ধরে রাখতে নতুন নেতৃত্বকে শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত কিছু ভালো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনতে হবে। আগের কমিশনের নানা পদক্ষেরপর কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বাজারকে গতিশীল করতে নতুন নেতৃত্বকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যাপক সমালোচনা এবং সরকার থেকে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিলে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও তার চার কমিশনার পদত্যাগ করেন।

এরপর, ওইদিনই বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে একাধিক বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মাসুদ খানকে নিয়োগ দেয় সরকার। সেই সঙ্গে তিন কমিশনার হিসেবে নারী আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান এবং ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ-আল-তারিককে নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বৃহস্পতিবার দরপতন থেকে বেরিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে শেয়ারবাজার। ওইদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষ হওয়ার পর বিএসইসি কার্যলয়ে গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নেন নতুন চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার। এ হিসাবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে আজই শেয়ারবাজারে প্রথম লেনদেন হয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে, লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান হয়। তবে, লেনদেনের শেষদিকে বস্ত্র, খাদ্য ও প্রকৌশল খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। তবে, বিমা খাতের কোম্পানিগুলো দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় দাপট দেখায়। সেই সঙ্গে অন্যান্য খাতেও দাম বাড়ার সংখ্যা বেশি হয়। ফলে, মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬০টির এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর বিমা খাতের ৪৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫টির এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্যদিকে, বস্ত্র খাতের ১৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খাদ্য খাতের ৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৫টির দাম কমেছে। এছাড়া, প্রকৌশল খাতের ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে।

এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৪টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫১টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৫টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়