নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৪ অক্টোবর, ২০২১

কর্পোরেট সংবাদ

সফল উদ্যোক্তা খায়রুল বাশার

বিদেশে থেকে ফিরে ডেইরি ফার্ম করে সফল হয়েছেন মো. খায়রুল বাশার। তিনি কুমিল্লার বুড়িচংয়ের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে জীবিকার উদ্দেশে দক্ষিণ কোরিয়া পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন সেখানে থেকে দেশের টানে চলে আসেন নিজ গ্রামে। বিদেশে জমানো অর্থে দেশে তিনি বিদেশে কিছু সফল খামারিদের দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের স্বপ্ন গড়ার কাজে নেমে পড়েন এবং নিজের জমিতে মাত্র তিনটা গাভি নিয়ে ২০১০ সালে গাভির খামারের কাজ শুরু করেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মাত্র তিন বছরের মধ্যেই মনের প্রবল ইচ্ছা ও শক্তির ফলে সফলতার সূচনা দেখেন। এর ফলে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি খামারটি বড় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বর্তমানে তার খামারে দুগ্ধবতী গাভি আছে ৩৫টি, বাছুর ২৬টি, ষাঁড় বাছুর ১২টি এবং গর্ভবতী গাভীর সংখ্যা ২৭টি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে তিনি উন্নতজাতের ঘাস চাষ করেন চার একর জমিতে। ফলে গো-খাদ্যের সংকট মিটানোর পাশাপাশি তিনি উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হন এবং একটি লাভজনক খামার গড়ে তোলেন। খামারটির নাম দেন আইয়ান মিহান ডেইরি ফার্ম।

খামার বড় করার পর তিনি প্রধান সমস্যায় পড়েন দুধ বিক্রয় নিয়ে। কুমিল্লা জেলায় দুধ ক্রয়কারী কোন প্রতিষ্ঠান (আড়ং, মিল্কভিটা, প্রান) না থাকায় এবং কোনো দুধ প্রসেসিং বা চিলিং সেন্টার না থাকায় দুধ বিক্রয়ে সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় গোয়ালা এবং মিষ্টির দোকানের ওপর। দুধ সরবরাহ করতে বাধ্য হন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা লিটার দরে। এমতাবস্থায় করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সারা দেশে দেওয়া হয় লকডাউন। বন্ধ হয়ে যায় মিষ্টির দোকান যার ফলে ২৫ থেকে ৩০ টাকা লিটার দরে স্থানীয় বাজারে দুধ বিক্রয়ে ব্যর্থ হন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেন। ঠিক সেই সময়ে তিনি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপির আওতায় রেন্টাল ভেহিক্যালের মাধ্যমে বিনা খরচে দুধ পরিবহনের সহায়তার মাধ্যমে দুধ বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেন এবং ভ্রাম্যমাণ ও হোম ডেলিভারির মাধ্যমে নিজের খামারের ও পার্শ্ববর্তী খামারিদের দুধ বিক্রয়ে সমর্থ হন। খাঁটি দুধের নিশ্চয়তা দেওয়ায় অল্পসময়েই তিনি সুনাম অর্জন করেন এবং দিন দিন তার দুধের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

দিন দিন তার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভোক্তার কাছে পরিচিতি লাভ করায় তিনি প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে ক্ষুদ্র আকারে দুধ প্যাকেজিং মেশিন, চিলার মেশিন, অটো কুলভ্যান ক্রয় করেন এবং পিউর প্রোটিন সাপ্লায়ার্স নামে একটি দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার দুধ প্যাকেজিং করে শহরে হোম ডেলিভারি, অনলাইনে ও ভ্রাম্যমাণভাবে বিক্রয় করে থাকেন। প্রতি সেইসঙ্গে প্রতি বৃহস্পতিবার গরু জবাই করে অর্ডার করা গ্রাহকের কাছে মাংস পৌঁছে দেন।

বর্তমানে দুধ ও মাংস বিক্রয় করে তার সব খরচ বাদ দিয়ে নিট লাভ থাকে মাসিক ২ লাখ টাকা। তার প্রতিষ্ঠানে তিনি ১৫ জনকে চাকরি প্রদান করেন। ৮ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করা তার খামারটির বর্তমান ভ্যালু প্রায় ৪ কোটি টাকা। বর্তমান সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি এলডিডিপির সহায়তায় বড় আকারে মিল্ক প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপনে আগ্রহী। যার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন খামারিদের কাছে থেকে দুধ সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহে সক্ষম হবেন এবং ভোক্তার কাছে গুণগতমানসম্পন্ন বিশুদ্ধ দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে সমর্থ হবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close