শরীয়তপুর প্রতিনিধি

  ১৩ অক্টোবর, ২০২১

ভুয়া ভাউচারে ২০ লাখ টাকা লোপাট

শরীয়তপুরের জাজিরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা কেনার নামে টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সিøপের বরাদ্দ থেকে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যেমে এ টাকা হাতিয়ে নেন তারা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সিøপের বরাদ্দ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরার জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নির্দেশনা দেওয়া হয় উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের। তারা ওই অর্থ বছরের সিøপের বরাদ্দ থেকে হাজিরা মেশিন কিনে ভাউচার উপস্থাপন করেন।

ওই সময়ের দায়িত্বে থাকা একাধিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও কয়েকজন শিক্ষক জানায়, বিদ্যালয়গুলোতে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয় করার কথা ছিল কিন্তু কোন মেশিন কিনবে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়নি। বায়োমেট্রিক মেশিন না কিনে কীভাবে ভাউচার জমা হলো এবং তা পাস করানো হয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি ওই কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে উপজেলার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে কোথাও ডিজিটাল হাজিরা মেশিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকরা ডিজিটাল মেশিন ক্রয় করে বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এ তথ্যই জানেন না।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পরও তিনটি অর্থবছর পেরিয়ে গেছে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনা হয়নি। এমনকি বরাদ্দ ফেরতও দেওয়া হয়নি। অনেক প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছে। আবার অনেক প্রধান শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন। তারা আরো বলেন, সিøপের মালামাল কেনার জন্য ক্রয় কমিটি থাকলেও তাদের কোনো কাজে লাগানো হয় না। প্রধান শিক্ষকরা উপজেলার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সিøপের টাকা খরচ করে থাকেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাষ্টার বলেন, কোন ধরনের বায়োয়োট্রিক মেশিন কিনবে এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আর মেশিন কিনতে পারেনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। তবে মেশিন কেনার টাকা তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা রয়েছে বলে জানান তারা। তবে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। আমরা টাকা জমা দিয়ে দিব।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সোবাহান মিয়া বলেন, ঘটনাটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের। আমি এ উপজেলাতে যোগদান করেছি ২০২০ সালের অক্টোবরে। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে বায়োয়োট্রিক মেশিন কেনার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close